ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে যে ৫ ধরনের ওষুধ

রাতে ঘুম আসতে দেরি হওয়া, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা দিনের বেলায় অতিরিক্ত তন্দ্রা- এসব সমস্যার পেছনে শুধু মানসিক চাপ বা অনিয়মিত জীবনযাপন দায়ী নয়। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সর্দি-অ্যালার্জি, বিষণ্নতা, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

জনস হপকিন্স মেডিসিনের ঘুমবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. ডেভিড নিউবাওয়ারের মতে, ঘুমের সমস্যা নিয়ে রোগী এলে তিনি প্রথমেই জানতে চান, রোগী কী কী ওষুধ সেবন করছেন। ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে এমন পাঁচ ধরনের ওষুধ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. এডিএইচডির কিছু ওষুধ

মনোযোগের ঘাটতি ও অতিসক্রিয়তাজনিত সমস্যা বা এডিএইচডির চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যাডেরল, রিটালিন ও কনসার্টার মতো কিছু উদ্দীপক ওষুধ মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এগুলো মস্তিষ্কে সজাগ থাকার প্রবণতা বাড়িয়ে ঘুম আসতে দেরি করাতে পারে। কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় কার্যকর থাকা ওষুধের প্রভাব সন্ধ্যা পর্যন্ত বজায় থাকে। ঘুমের সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ সেবনের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

২. সর্দি ও নাক বন্ধভাব কমানোর কিছু ওষুধ

সিউডোএফেড্রিনযুক্ত কিছু সর্দি ও নাক বন্ধভাব কমানোর ওষুধ সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং বুক ধড়ফড় করার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে ঘুমাতে অসুবিধা হতে পারে। এসব ওষুধের পরিবর্তে অন্য কোনও ওষুধ বা নাকের স্প্রে ব্যবহার করা উপযুক্ত কি না, তা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। ওষুধ সেবনের সময় নিজে থেকে পরিবর্তন না করাই ভালো।

৩. ধূমপান ছাড়ার কিছু উপকরণ

ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার সময় নিকোটিনের অভাবে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। আবার নিকোটিনযুক্ত প্যাচ, চুইংগাম ও লজেন্সের মতো উপকরণও কিছু মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। নিকোটিন হৃদ্‌স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ানোর পাশাপাশি মস্তিষ্কে উদ্দীপক প্রভাব তৈরি করে। এসব উপকরণ ব্যবহারে ঘুমের সমস্যা হলে চিকিৎসক বা ধূমপান ছাড়ার পরামর্শকের সহায়তা নিন।

৪. বিষণ্নতার কিছু ওষুধ

বিষণ্নতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধের কারণে কারও ঘুম কমে যেতে পারে, আবার কারও অতিরিক্ত তন্দ্রা দেখা দিতে পারে। প্রোজ্যাক, জোলফট, সিমবাল্টা ও ইফেক্সরের মতো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। ওয়েলবিউট্রিনের মতো কিছু ওষুধও উদ্দীপক প্রভাবের কারণে ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এমন সমস্যা হলে চিকিৎসক ওষুধের মাত্রা, সেবনের সময় বা বিকল্প চিকিৎসা বিবেচনা করতে পারেন। তবে নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

৫. মূত্রবর্ধক ওষুধ

উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতা এবং কিছু কিডনি ও যকৃতের রোগের চিকিৎসায় মূত্রবর্ধক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধ প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দেয়। ফলে রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হতে পারে, যা ঘুম ভাঙার অন্যতম কারণ। ওষুধ সেবনের সময় পরিবর্তন করলে উপকার হতে পারে কি না, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তরল গ্রহণ অতিরিক্ত কমানোও ঠিক নয়।

ঘুম ভালো রাখতে করণীয়

কোনও ওষুধ সেবনের পর ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসককে বিষয়টি জানান। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি ওষুধের মাত্রা বা সেবনের সময় পরিবর্তন করতে পারেন কিংবা বিকল্প চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

পাশাপাশি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা, বিকালের পর চা-কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা, ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল পান না করা এবং শোবার ঘর অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা উপকারী হতে পারে। মনে রাখতে হবে, ঘুমের সমস্যা হচ্ছে বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও প্রয়োজনীয় ওষুধ বন্ধ করা বা তার মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়।

সূত্র: দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস