সময়ের কাঁটায় ভক্তি, নকশায় আধ্যাত্মিকতা আর কারিগরিতে বিলাসিতার ছোঁয়া। ভগবান রাম ও অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুপ্রেরণায় তৈরি জ্যাকব অ্যান্ড কো.-র নতুন ঘড়ি ‘শ্রীরামচন্দ্র লিমিটেড এডিশন’ এখন নজর কাড়ছে ঘড়িপ্রেমীদের। দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে শুধু দাম নয়, ঘড়িটির বিরলত্বও একে বিশেষ করে তুলেছে। সংস্থার দাবি, সারা বিশ্বে এই ঘড়ির মাত্র তিনটি তৈরি করা হয়েছে। ভক্তি, প্রতীকী নকশা এবং অত্যাধুনিক ঘড়ি নির্মাণশিল্পের সংমিশ্রণে তৈরি এই সময়যন্ত্র যেন বিলাসিতার মোড়কে এক অনন্য শ্রদ্ধার্ঘ্য।
আগে ‘রাম জন্মভূমি’ ঘড়ি তৈরি করে আলোচনায় এসেছিল জ্যাকব অ্যান্ড কো.। এ বার সংস্থাটি এনেছে ‘শ্রীরামচন্দ্র’ সংস্করণ। সম্প্রতি নিজেদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই বিশেষ ঘড়ির কথা ঘোষণা করেছে তারা। জ্যাকব অ্যান্ড কো.-র অ্যাস্ট্রোনোমিয়া সোলার মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এই লিমিটেড এডিশন। মাত্র তিনটি ঘড়ি তৈরি হওয়ায় সংগ্রাহকদের কাছে এটি হয়ে উঠছে এক বিরল সম্পদ।
ঘড়ির ডায়ালে রাম-হনুমান
শ্রী রামচন্দ্র ঘড়ির অন্যতম আকর্ষণ এর সূক্ষ্ম নকশা। সংস্থার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনে জানানো হয়েছে, ঘড়িতে দেবদেবীদের মূর্তির আকারে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভগবান রাম রয়েছেন ছয়টার অবস্থানে, আর ভগবান হনুমান রয়েছেন ন’টার অবস্থানে।
ঘড়িটির মধ্যে রয়েছে নীল ল্যাকার দিয়ে তৈরি পৃথিবীর প্রতিকৃতি, যা নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরে মাত্র এক মিনিটে একটি পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করে। এর বিপরীতে, ১২টার অবস্থানে রয়েছে এক মিনিটে পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করা ফ্লাইং ট্যুরবিলন কেজ। এই জটিল যান্ত্রিক ব্যবস্থা ঘড়িটির নকশায় এনেছে বিশেষ মাত্রা।
সূর্যের প্রতীক কমলা পাথর
ঘড়িটির ঘণ্টা ও মিনিটের কাঁটা তৈরি হয়েছে ৫এন রোজ গোল্ড দিয়ে। এগুলো যুক্ত রয়েছে কমলা রঙের ফায়ার ওপাল পাথরে তৈরি একটি অফ-সেন্টার ডায়ালের সঙ্গে।
ঘড়ির কেন্দ্রে রয়েছে গেরুয়া আভাযুক্ত কমলা রঙের কিউবিক জিরকোনিয়া পাথর। জ্যাকব অ্যান্ড কো.-র নিজস্ব কাটে তৈরি এই পাথরটি সূর্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। রঙের বিন্যাস ও পাথরের কারুকাজ ঘড়িটির আধ্যাত্মিক ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মন্দির, মণ্ডল ও ত্রিমাত্রিক কারুকাজ
সংস্থার বর্ণনা অনুযায়ী, মন্দিরসহ ঘড়ির বিভিন্ন উপাদান সাজানো হয়েছে নীল রঙের একটি বেসের ওপর। সেখানে রয়েছে মণ্ডল-অনুপ্রাণিত নকশা। সূক্ষ্ম ত্রিমাত্রিক খোদাইয়ের পাশাপাশি ঘড়িটিতে দেখা যায় নক্ষত্রমণ্ডলের নকশা, হাতে তৈরি ড্রাগনের অবয়ব এবং বিশেষ কাটের মূল্যবান পাথর।
অ্যাস্ট্রোনোমিয়া সিরিজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, ঘড়িটির যান্ত্রিক কাঠামো ৩৬০ ডিগ্রি কোণ থেকে দেখা যায়। ফলে এর ভেতরের জটিল যন্ত্রাংশ, ঘূর্ণায়মান উপাদান এবং নিখুঁত কারিগরি সব দিক থেকেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
রোজ গোল্ডের কেস, নীল অ্যালিগেটর স্ট্র্যাপ
ঘড়িটির সমস্ত উপাদান আবদ্ধ রয়েছে ১৮ ক্যারেট রোজ গোল্ডের কেসের মধ্যে। পাশের অংশে রয়েছে একটানা স্যাফায়ার ক্রিস্টালের তৈরি কেস ব্যান্ড। উপরে গম্বুজাকৃতির স্যাফায়ার ক্রিস্টাল গ্লাস ঘড়িটির যান্ত্রিক সৌন্দর্যকে আরও স্পষ্ট করে। নীল রঙের অ্যালিগেটর চামড়ার স্ট্র্যাপ পুরো নকশায় এনেছে আভিজাত্যের ছোঁয়া।
দাম কত?
ইথোস ওয়াচ বুটিকস-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ঘড়িটির দাম ৪ দশমিক ২৫ কোটি ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ঘড়িটির কারুকাজ সম্পর্কে জ্যাকব অ্যান্ড কো.-র বক্তব্য, “বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনটি ঘড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ শ্রী রামচন্দ্র সংস্করণে একসঙ্গে মিশেছে ভক্তি, প্রতীকী ভাবনা এবং উচ্চমানের ঘড়ি নির্মাণশিল্পের নিপুণতা।”
বিলাসবহুল ঘড়ির জগতে ‘শ্রীরামচন্দ্র’ আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণা, বিরল নকশা ও জটিল যান্ত্রিক কারিগরির সমন্বয়ে হয়ে উঠেছে এক বিশেষ সংগ্রহযোগ্য সৃষ্টি।