হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে শুধু ওষুধ নয়, জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি সুষম খাবার এবং পর্যাপ্ত ফল খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ফলের তালিকায় আপেল ও পেয়ারা দুটিই বেশ পরিচিত। কিন্তু হার্টের রোগীদের জন্য এই দুই ফলের মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী?
আপেলের গুণাগুণ
আপেলে রয়েছে পেকটিন নামের দ্রবণীয় ফাইবার, যা রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড ও কুয়েরসেটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এই উপাদানগুলি শরীরের প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় আপেল রাখা হৃদ্স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।
পেয়ারার গুণাগুণ
পেয়ারাও পুষ্টিগুণে কোনও অংশে কম নয়। এতে প্রচুর ভিটামিন সি এবং খাদ্য-আঁশ রয়েছে। পেয়ারার ফাইবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। পেয়ারার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম হওয়ায় পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হয়।
কোনটি বেছে নেবেন?
আপেল ও পেয়ারা দুটিই হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আপেলের পেকটিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যেমন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে, তেমনই পেয়ারার ফাইবার, ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়। তাই একটি ফলকে অন্যটির চেয়ে বেশি উপকারী বলে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সামর্থ্য ও পছন্দ অনুযায়ী দুটিই পালা করে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে ফলের পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। তবে কিডনির সমস্যা থাকলে বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকলে পেয়ারাসহ পটাশিয়ামসমৃদ্ধ ফল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, শুধু আপেল বা পেয়ারা খেলেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি দূর হয় না।