চুলের সৌন্দর্য ও স্টাইল বদলে দিতে হেয়ার ডাই এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি এটি ত্বক ও চুলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তৈরি করতে পারে, যা অনেকেই প্রথমদিকে গুরুত্ব দেন না।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্প সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, অতিরিক্ত তাপ, রাসায়নিকের সংস্পর্শ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে তুলনামূলক দ্রুত বার্ধক্যের লক্ষণ দেখাতে পারে। হেয়ার ডাই, বিশেষ করে পার্মানেন্ট ডাইয়ে থাকা অ্যামোনিয়া, পার-অক্সাইড ও পিপিডির মতো উপাদান স্ক্যাল্পে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা ও প্রদাহ বাড়াতে পারে। বারবার ডাই ব্যবহার করলে স্ক্যাল্পের দুর্বল হয়ে যেতে পারে সুরক্ষাব্যবস্থা। ফলে চুল শুষ্ক, ভঙ্গুর বা পাতলা দেখাতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়ার পর ত্বকে তৈরি হতে পারে কালচে দাগও।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অনেক রোগী হেয়ার ডাই ব্যবহারের পর মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, কপাল বা কানের পাশে র্যাশ, ত্বক জ্বলা কিংবা ফোলা নিয়ে আসেন। কারও কারও চোখে জ্বালা, সংবেদনশীল ত্বকে ব্রণ বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত শুষ্কতাও দেখা যায়।
তবে সব ধরনের হেয়ার কালার সমান ক্ষতিকর নয় এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ত্বকে জ্বালাপোড়া বা কালচে দাগের ঝুঁকি কিছুটা কম রাখতে পিপিডি-মুক্ত, অ্যামোনিয়া-মুক্ত বা সেমি-পার্মানেন্ট কালার তুলনামূলক ভালো বিকল্প হিসেবে ধরা হয়। চুলে রাসায়নিক ডাইয়ের বিকল্প হিসেবে অনেকেই প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। প্রাকৃতিক মেহেদি তুলনামূলক কোমল একটি বিকল্প, যা চুলে হালকা লালচে-বাদামি আভা ও কন্ডিশনিং প্রভাব দিতে পারে। এর সঙ্গে কফি, চায়ের লিকার বা দই মিশিয়ে ব্যবহার করলে রঙের টোন ও চুলের গঠন কিছুটা উন্নত হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, কফি বা ব্ল্যাক টি লিকার চুলে কিছুটা গাঢ় বাদামি আভা আনতে সাহায্য করে। আর দই স্ক্যাল্প আর্দ্র রাখতে সহায়ক হতে পারে।
মনে রাখতে হবে, প্রাকৃতিক হলেও সব উপাদান সবার ত্বকের জন্য সমান নিরাপদ নয়। সংবেদনশীল ত্বক বা অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে মেহেদি বা অন্য উপাদান থেকেও জ্বালাপোড়া হতে পারে। মেহেদিভিত্তিক কালার কিছু ক্ষেত্রে কোমল হলেও ‘ব্ল্যাক হেনা’ এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে লুকানো পিপিডি থাকতে পারে। এছাড়া সংবেদনশীল স্ক্যাল্পের জন্য তৈরি ফর্মুলা লেখা পণ্য বেছে নেওয়া ভালো।
হেয়ার ডাই ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা, গ্লাভস ব্যবহার, নির্দেশিত সময়ের বেশি ডাই না রাখা এবং চুলের গোড়ার আশপাশে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানো উপকারী। খুব ঘন ঘন পার্মানেন্ট ডাই ব্যবহার না করা, পুরো স্ক্যাল্পের বদলে হাইলাইটস বা বালায়াজ পদ্ধতি বেছে নেওয়া, স্ক্যাল্প আর্দ্র রাখা ও রোদে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
যাদের আগে থেকেই অ্যালার্জি বা স্ক্যাল্প সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ডাই করার আগে অল্প সময়ের জন্য মৃদু টপিক্যাল স্টেরয়েড বা প্রশান্তিদায়ক লোশন ব্যবহার কিছু ক্ষেত্রে জ্বালাপোড়া কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। ডাই ব্যবহারের পর জ্বালা, চুলকানি, খুশকি বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত তা ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।