‘সবই তোমার মাথার ভেতর’, ‘চলো পার্টি করি, ঠিক হয়ে যাবে’, ‘আরে, এসব কিছুই না’; মানসিক চাপ, বিষণ্নতা কিংবা মন খারাপে আক্রান্তদের এসব কথা শুনতে হয় হরদম। অথচ এসব কথায় কাজের কাজ তো হবেই না, উল্টো মানসিক যন্ত্রণার তীব্রতা বাড়বে আরও। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এ নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ একতা শিবাল।
‘সব তোমার মাথার ভেতর’
মনোরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এ কথাই বোধহয় বেশি শুনতে হয়। যিনি বলেন, তিনি বিশ্বাসই করতে চান না যে, মনের রোগ কাল্পনিক কিছু নয়, নিজের বানানো কিছুও নয়। মনের রোগকে বিশেষজ্ঞরা হার্ট অ্যাটাকের মতো শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও তুলনা করে থাকেন। তাই সবার আগে কাউকে বিষণ্নতায় ডুবে থাকতে দেখলে সেটাকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। ‘সব তোমার মাথার ভেতর’ বললে তা রোগীর অনুভূতিতে আঘাত করবে ও উপকারের চেয়ে অপকারই হবে বেশি।
‘চেষ্টা করো ঠিক হতে’
রোগী নিজের অজান্তে হলেও কিন্তু ঠিকই চেষ্টা চালিয়ে যায়। তাদের চেষ্টাটা হয়তো আপনার চোখে ধরা পড়ে না। এমনটা বললে রোগীর আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরতে পারে, বাড়তে পারে হতাশা। তাকে বোঝান যে আপনি তার পাশেই আছেন এবং তার ভালোর জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করবেন। তাকে ঠিক হতে না বলে বরং বলুন, ‘তোমার ভালো লাগার জন্য আমি কী করতে পারি বলো’।
‘তোমাকে দেখে তো বিষণ্ন মনে হয় না’
ধরুন আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। হাসছেন, খাচ্ছেন, গল্প করছেন বেশ। কেউ একজন আপনাকে দেখে বলল, ‘আপনাকে দেখে তো ডায়াবেটিক মনে হয় না’। ঠিক একই ব্যাপার ঘটবে যদি কথাটা কোনও মনোরোগে ভোগা লোককে বলেন। মনের সঙ্গে যুদ্ধটা দেখা সম্ভব নয়। তাই কেউ যদি সমস্যার কথা জানায়, তো তার বাহ্যিক গঠন দেখেই এমনটা বলতে যাবেন না। বেশিরভাগ বিষণ্ন ব্যক্তিই চেষ্টা করে মুখের ওপর একটা অদৃশ মুখোশ চাপিয়ে রাখতে।
‘যারা মানসিকভাবে দুর্বল, থেরাপি তাদের জন্যই’
এ ধারণাও আমাদের চারপাশে প্রবল। মানসিক চাপ নিয়ে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারাটাই বিরাট সাহসের কাজ। সেখানে থেরাপি কিংবা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া মানে মোটেও মানসিক দুর্বলতার লক্ষণ নয়। বরং রোগীর কাছের কেউ হয়ে থাকলে তাকে থেরাপি নিতে আরও উৎসাহ দিন।
বরং যা বলবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় মনের কথা শেয়ার করলেই হালকা হয় বোঝা। বেরিয়ে আসে সমাধানও। আর সে পথটা সুগম করতে মনোরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিতে যা বলতে পারেন-
- বলো, তোমাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
- এ নিয়ে কথা বলতে চাও, আমি শুনবো।
- তোমার ব্যাপারটা শুনে বেশ খারাপ লাগলো, যেকোনও প্রয়োজনে আমি আছি পাশে।
- দেখি আমাকে বলো, আমি শুনছি।
- তুমি কি আমার পরামর্শ চাও? নাকি জানাতে চাও?