কথা বলতে বলতে হঠাৎ এমন হয়, খুব পরিচিত একটি নাম বা শব্দ মনে করতে পারছেন না। মানুষটির মুখ, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঘটনা সবই মনে আছে, শুধু নামটিই যেন কিছুতেই মনে আসছে না। কিছুক্ষণ পর হয়তো নিজে থেকেই মনে পড়ে গেলো। এমন অভিজ্ঞতা একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই ঘটনা যদি বারবার ঘটতে থাকে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন বিষয়টিকে হালকা ভাবে না নেওয়াই ভালো।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরিচিত শব্দ বা নাম জিভের ডগায় এসেও বলতে না পারার এই অবস্থাকে ‘টিপ অব দ্য টাং’ বলা হয়। সাধারণত শব্দটি মস্তিষ্ক থেকে পুরোপুরি মুছে যায় না। বরং সেই মুহূর্তে স্মৃতিতে থাকা তথ্যটি ঠিকমতো খুঁজে বের করে ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়।
মস্তিষ্কে স্মৃতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজে একাধিক অংশ একসঙ্গে কাজ করে। ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের অংশগুলিও সেই তথ্যকে শব্দে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। ফলে কোনও একটি শব্দ মনে করার সময় এই প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটলে পরিচিত নাম বা শব্দটি জানা থাকা সত্ত্বেও মুখে আনা কঠিন হতে পারে।
সব ভুলে যাওয়াই স্মৃতিনাশ নয়
মাঝেমধ্যে নাম বা শব্দ মনে না পড়লেই ডিমেনশিয়া হয়েছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি বা একসঙ্গে অনেক বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার কারণেও এমনটা হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঝেমধ্যে এ ধরনের ঘটনা কিছুটা বাড়তেও পারে।
তবে ভুলে যাওয়ার ঘটনা যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে, তখন সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে পরিচিত মানুষ, জায়গা, ঠিকানা বা দৈনন্দিন কাজের বিষয় বারবার ভুলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
কথা বলার সময় শুধু একটি শব্দ মনে না পড়ার পাশাপাশি যদি পরিচিত মানুষকে চিনতে সমস্যা হয়, একই কথা বারবার বলতে হয়, সাম্প্রতিক ঘটনা মনে রাখতে অসুবিধা হয়, পরিচিত জায়গায় পথ ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে কিংবা দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এগুলো কখনও কখনও ডিমেনশিয়া বা অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
এ ছাড়া মাথায় গুরুতর আঘাত, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মদ্যপান, কিছু ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, থাইরয়েডের সমস্যা বা নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতির সঙ্গেও স্মৃতির সমস্যা সম্পর্কিত হতে পারে। তাই বারবার ভুলে যাওয়ার কারণ নিজে থেকে নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
অর্থাৎ, মাঝে মধ্যে পরিচিত কোনো নাম বা শব্দ মনে না পড়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সমস্যা যদি ঘন ঘন হতে থাকে, বাড়তে থাকে বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তখন সেটিকে বয়সজনিত সাধারণ ভুল বলে এড়িয়ে না গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-পরামর্শ নেওয়া উচিত।