হাম থেকে শিশুকে রক্ষায় অভিভাবকরা যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন

বাংলাদেশে বর্তমানে হামের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ২০ হাজার ৯৫১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে ১০১ জনের। তাই শিশুদের হাম থেকে সুরক্ষায় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এটি সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া হামের সাধারণ লক্ষণ। ছোট শিশু, বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।

শিশুকে হামের হাত থেকে রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের হামের টিকার দুইটি মাত্রা নেওয়ার সুপারিশ করে। প্রথম মাত্রা ও দ্বিতীয় মাত্রা কখন দিতে হবে, তা দেশের টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। কোনও শিশু নির্ধারিত টিকা নিতে না পারলে দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাদ পড়া টিকা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

বাড়িতে কারও হাম হলে শিশুকে তার সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা জরুরি। হাম আক্রান্ত ব্যক্তি ফুসকুড়ি ওঠার কয়েক দিন আগেও এবং ফুসকুড়ি ওঠার পর কয়েক দিন পর্যন্ত অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সংক্রমণ প্রতিরোধে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন।

শিশুর শরীরে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়ার সঙ্গে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে তাকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শে না এনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ দেওয়া ঠিক নয়। হামের নির্দিষ্ট কোনওে ওষুধ নেই, চিকিৎসায় মূলত জটিলতা প্রতিরোধ ও শিশুর প্রয়োজনীয় পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। হামে আক্রান্ত শিশুর জন্য ভিটামিন এ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, তবে এর মাত্রা ও ব্যবহারের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।

শিশুর টিকার কার্ড দেখে তার হামের টিকা যথাসময়ে হয়েছে কি না নিশ্চিত করা এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। টিকা নিয়ে কোনও সংশয় থাকলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ। নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমেই শিশুকে এই সংক্রামক রোগের গুরুতর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতর।