মিউজিক থেরাপি কি সত্যিই ভালো ঘুমে সাহায্য করে

সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে সহজে ঘুম আসে না। কেউ তখন মোবাইলে স্ক্রল করেন, কেউ টেলিভিশন দেখেন, আবার কেউ বেছে নেন শান্ত কোনও সুর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘুমানোর আগে হালকা সংগীত শোনাকে অনেকেই ‘মিউজিক থেরাপি’ হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ধরনের সংগীত মানসিক চাপ কমিয়ে শরীর ও মনকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করতে পারে। ফলে ঘুমাতে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ এবং ঘুমের মান কিছুটা উন্নত হতে পারে।

মিউজিক থেরাপি কীভাবে কাজ করে

ঘুমের আগে ধীর লয়ের (প্রতি মিনিটে প্রায় ৬০–৮০ বিট) শান্ত সুরের সংগীত শুনলে শরীর ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করে। হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি কমে আসে, কমে মানসিক উত্তেজনাও। এর ফলে মস্তিষ্ক ঘুমের জন্য উপযুক্ত অবস্থায় যেতে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমাতে কম সময় লাগে এবং গভীর ঘুমের অনুভূতিও বাড়তে পারে।

কী ধরনের সংগীত শুনবেন

ঘুমের আগে এমন সুর বেছে নেওয়া ভালো, যা মনকে শান্ত করে এবং কোনও ধরনের উত্তেজনা তৈরি করে না। যেমন—

  • মৃদু পিয়ানো বাগিটারের সুর
  • প্রকৃতির শব্দ যেমন, বৃষ্টির টাপুর-টুপুর, সমুদ্রের ঢেউ বা পাখির ডাক
  • নরম যন্ত্রসংগীত
  • ধ্যান বা মেডিটেশনের জন্য তৈরি সাউন্ডস্কেপ
  • খুব কম ভলিউমে রবীন্দ্রসংগীত বা শাস্ত্রীয় সংগীত, যদি তা আপনার মনে প্রশান্তি আনে

কোন ধরনের গান এড়িয়ে চলবেন

ঘুমানোর ঠিক আগে সব ধরনের গান সবার জন্য উপকারী নাও হতে পারে। অতিরিক্ত জোরে বাজানো গান, দ্রুত তালের সংগীত কিংবা খুব আবেগপ্রবণ গান অনেক সময় মস্তিষ্ককে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে।

তাই ঘুমের আগে এমন সুর এড়িয়ে চলাই ভালো, যা মনকে উত্তেজিত বা ব্যস্ত করে ফেলে।

কতক্ষণ শুনবেন

বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ঘুমানোর ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে হালকা সুর শোনার পরামর্শ দেন। বর্তমানে অনেক মিউজিক অ্যাপেই ‘স্লিপ টাইমার’ সুবিধা রয়েছে, যা ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট সময় পর গান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

হেডফোন নাকি স্পিকার কোনটি ভালো

দীর্ঘ সময় ইয়ারফোন বা হেডফোন লাগিয়ে ঘুমানো সব সময় আরামদায়ক বা নিরাপদ নাও হতে পারে। সম্ভব হলে কম ভলিউমে স্পিকারে গান শোনা ভালো।

যদি হেডফোন ব্যবহার করতেই হয়, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা কানে চাপ সৃষ্টি না করে বা অস্বস্তির কারণ না হয়।

শুধু গান শুনলেই কি ভালো ঘুম হবে

মিউজিক থেরাপি ভালো ঘুমের একটি সহায়ক উপায় হতে পারে, তবে এটি একাই সব সমস্যার সমাধান নয়। ঘুমের জন্য কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়েঘুমাতে যাওয়া
  • ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ও অন্যান্য স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা
  • রাতে অতিরিক্ত ক্যাফেইনও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা
  • শোবার ঘরকে শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা

সঠিক পরিবেশ ও নিয়মিত অভ্যাসের সঙ্গে শান্ত সুরের সংগীত যোগ হলে তা অনেকের জন্য ঘুমের একটি আরামদায়ক সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে।