আজ ‘ওয়ান ভয়েস ডে’, কেন কীভাবে পালন করা হয় এই দিন?

জীবনযাপন ডেস্ক
২৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:৫৯আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৪:১৬

পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মানুষ। ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা, জীবনযাপনও ভিন্ন। কিন্তু বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে তারা একই সময়ে একই অঙ্গীকার উচ্চারণ করেন—শান্তির জন্য, সম্প্রীতির জন্য, সহাবস্থানের জন্য। সেই অনন্য বৈশ্বিক আয়োজনের নাম ‘ওয়ান ভয়েস ডে’।

প্রতি বছর ২৬ জুলাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ একযোগে কণ্ঠ মিলিয়ে পাঠ করেন সর্বজনীন শান্তি অঙ্গীকার (ইউনিভার্সাল পিস কভেন্যান্ট-ইউপিসি)। এর লক্ষ্য একটাই—বিভেদ ভুলে শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।

এক পৃথিবী, এক বার্তা

ওয়ান ভয়েস ডে এমন একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যেখানে ধর্ম, দেশ, ভাষা কিংবা সংস্কৃতির ভিন্নতা পেরিয়ে মানুষ শান্তির আহ্বানে একত্রিত হন।

প্রতিবছর ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় (ইউনিভার্সাল টাইম বা ইউটি) বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ একই সময়ে ৫৭৭ শব্দের সর্বজনীন শান্তি অঙ্গীকার পাঠ করেন।

এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা বা ধর্মীয় আচার নয়। বরং এটি একটি বৈশ্বিক অঙ্গীকার, যেখানে মানুষ জানান—মত ও পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই তাদের অভিন্ন প্রত্যাশা।

৫৭৭ শব্দের শান্তির বার্তা

সর্বজনীন শান্তি অঙ্গীকার একটি বিশেষ দলিল, যার উদ্দেশ্য পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে পৃথিবী যেমন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু মানুষের একটি চাওয়া কখনও বদলায় না—শান্তিতে বসবাস করা।

৫৭৭ শব্দের এই অঙ্গীকার সেই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার কথাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

যেভাবে শুরু

ওয়ান ভয়েস ডের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে। এটি ছিল একদল মানুষের সম্মিলিত আধ্যাত্মিক উদ্যোগ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, ধর্ম, পেশা ও সংস্কৃতির মানুষ এতে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের বয়সও ছিল বৈচিত্র্যময়—১৭ বছরের তরুণ থেকে ৭৫ বছরের প্রবীণ।

তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি লেখা তৈরি করা, যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়; বরং সব সময়ের জন্য মানুষের শান্তি, আশা এবং ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করবে।

সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় ৫৭৭ শব্দের সর্বজনীন শান্তি অঙ্গীকার।

শান্তির দিনটি কীভাবে পালন করবেন

নানাভাবেই দিবসটি পালন করতে পারেন। যেমন-

একসঙ্গে শান্তির বার্তা পড়ুন: পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের নিয়ে বসে শান্তির অঙ্গীকার পাঠ করতে পারেন। একসঙ্গে পড়লে মনে হতে পারে ‘আচ্ছা, পৃথিবীতে শান্তির টিমে সদস্য সংখ্যা তো কম নয়।’

পুরোনো অভিমানকে ছুটি দিন: এই দিনে চেষ্টা করুন কারও সঙ্গে মনোমালিন্য থাকলে তা কমিয়ে আনতে। কারণ মনের ভেতরের ছোট ছোট রাগও মাঝে মাঝে বিশাল দেয়াল তৈরি করে ফেলে।

বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হোন: শান্তির অঙ্গীকার বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় পাওয়া যায়। পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ নিজ নিজ ভাষায় এটি পাঠ করেন।

ভালোবাসার চর্চা করুন: একটি ভালো কথা বলা, কাউকে ক্ষমা করা বা কারও পাশে দাঁড়ানো—এসব ছোট কাজও শান্তির বড় বার্তা হয়ে উঠতে পারে।

এক কণ্ঠের শক্তি

ওয়ান ভয়েস ডে মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর মানুষ আলাদা হলেও শান্তি, ভালোবাসা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা সবারই এক।

হয়তো একজন মানুষ একা পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারবেন না। কিন্তু যখন বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ একই সময়ে শান্তির পক্ষে কণ্ঠ মেলান, তখন সেই সম্মিলিত অঙ্গীকার বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

তাই ২৬ জুলাই শুধু একটি দিবস নয়, এটি একসঙ্গে শান্তির পক্ষে দাঁড়ানোর একটি বৈশ্বিক আহ্বান। কারণ একটি সম্মিলিত কণ্ঠ কখনও কখনও পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী সূচনা হতে পারে।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
নিজের যত্নে ফিরুক জীবনের ভারসাম্য
ঠান্ডা পানীয়ের উৎসব আজ, সতেজতার স্বাদে গ্রীষ্ম উদযাপন
আজ আমপ্রেমীদের জন্য বিশেষ দিন, মাতুন মিষ্টি-রসালো এই ফলের উৎসবে
সর্বশেষ খবর
ক্রসফায়ারে একরামুল হত্যা: হাসিনা-বেনজীরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
ক্রসফায়ারে একরামুল হত্যা: হাসিনা-বেনজীরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
ডিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৪৬৩, মামলা ৪০
ডিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৪৬৩, মামলা ৪০
রিয়ালের ভিনিসিয়ুসকে দলে টানতে চায় আর্সেনাল
রিয়ালের ভিনিসিয়ুসকে দলে টানতে চায় আর্সেনাল
নদীর তলদেশে চীনের প্রথম হাই-স্পিড রেল টানেল খনন
নদীর তলদেশে চীনের প্রথম হাই-স্পিড রেল টানেল খনন
সর্বাধিক পঠিত
পদত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যা বললেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী
পদত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যা বললেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী
শেখ হাসিনা যে দিক দিয়েই আসবে সেই দিক দিয়েই বরণ করবো: এসএম জিলানী
শেখ হাসিনা যে দিক দিয়েই আসবে সেই দিক দিয়েই বরণ করবো: এসএম জিলানী
৩ নেতা একসাথে হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এই সরকারের পতন: কর্নেল অলি আহমদ
৩ নেতা একসাথে হলে এক সপ্তাহের মধ্যে এই সরকারের পতন: কর্নেল অলি আহমদ
তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না, হাতজোড় করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ শিক্ষকের
তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না, হাতজোড় করে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ শিক্ষকের
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকের প্রতিক্রিয়া
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকের প্রতিক্রিয়া