রুচিশীল অন্দরসজ্জার উদাহরণ ভাগ্যশ্রীর বাড়ি, কী কী রয়েছে সেখানে

অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রীকে চেনেন পর্দার তারকা হিসেবে। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ দিয়ে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পাওয়া এই অভিনেত্রী এখন অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয়। স্বাস্থ্য, ডায়েট ও ফিটনেস নিয়ে তাঁর নানা পরামর্শ নিয়মিতই নজর কাড়ে অনুরাগীদের।

তবে এবার আলোচনায় তার শরীরচর্চা বা তারুণ্য ধরে রাখার টোটকা নয়, বরং মুম্বইয়ের বিলাসবহুল বাড়ির অন্দরসজ্জা।

অভিনেত্রীর বাড়ির সাজ দেখলে বোঝা যায়, শুধু অভিনয় বা ফিটনেস নয়, ঘর সাজানোর ক্ষেত্রেও খুঁতখুঁতে ভাগ্যশ্রী। তার অন্দরসজ্জায় একদিকে যেমন রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া, অন্যদিকে জায়গা করে নিয়েছে প্রাচীন শিল্প ও স্থাপত্যের নানা উপাদান।

রাজকীয় প্রবেশদ্বার, পাঁচতারা হোটেলের মতো বসার ঘর

ফরাহ খানের একটি পডকাস্টে নিজের বাড়ির অন্দরমহল ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন ভাগ্যশ্রী। সেখানেই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর সাজানোর রুচি।

বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়ে রাজকীয় আবহ। এরপর বসার জায়গা বা হলঘরে ঢুকলে মনে হতে পারে, এটি কোনও সাধারণ বাড়ির লিভিং রুম নয়, বরং পাঁচতারা হোটেলের বিলাসবহুল লাউঞ্জ!

দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা নানা শো-পিস ও শিল্পকর্ম দিয়ে সাজানো হয়েছে ঘরটি। তবে সাজসজ্জায় কোথাও যেন বাড়াবাড়ি নেই। প্রতিটি জিনিসের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট জায়গা।

দেওয়ালেই যেন বিশাল ক্যানভাস

ভাগ্যশ্রীর বসার ঘরের সবচেয়ে নজরকাড়া অংশগুলোর একটি হলো দেওয়ালের নকশা। কালো বর্ডারের ফ্রেমে তৈরি ‘ভি’ আকৃতির প্যাটার্ন গোটা দেওয়ালকে এমনভাবে সাজিয়েছে, যেন সেটি একটি বিশাল শিল্পকর্মের ক্যানভাস। ঘরের সাজে এই দেওয়ালই হয়ে উঠেছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

ঝাড়বাতি ছাড়াই মায়াবী আলো

বাড়ির ফলস সিলিংয়েও রয়েছে অভিনবত্ব। গোটা ছাদজুড়ে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন রঙের এলইডি লাইটের স্ট্রিপ। ফলে ঘর আলোকিত করতে বড় কোনও ঝাড়বাতির প্রয়োজন হয়নি। নরম আলোয় পুরো বসার ঘরে তৈরি হয়েছে শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ।

ঘরের আসবাবপত্রে রয়েছে গাঢ় রঙের প্রাধান্য। সেই গাঢ় রঙের ভারসাম্য বজায় রাখতে মাঝখানে রাখা হয়েছে ঘিয়ে রঙের আরামকেদারা। ফলে ঘরের সাজে এসেছে রঙের সুন্দর বৈপরীত্য।

মোমবাতিদানি, শিল্পকর্ম আর অর্কিড

ভাগ্যশ্রীর বসার ঘরে শুধু আসবাব নয়, চোখে পড়বে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম ও কারুকাজ করা মোমবাতিদানি। সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘরে রাখা হয়েছে অর্কিড। সবুজের উপস্থিতি ঘরের গাঢ় রঙের আসবাবের মধ্যে এনে দিয়েছে সতেজতার ছোঁয়া।

অর্থাৎ, ঘরটিতে বিলাসিতা থাকলেও সেটিকে একেবারে ভারী বা চোখধাঁধানো করে তোলেননি অভিনেত্রী।

পুরনো-নতুনের মেলবন্ধন

ভাগ্যশ্রীর বাড়ির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আধুনিক অন্দরসজ্জার সঙ্গে প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর মিশেল। ঘরের প্রতিটি অংশেই কোনও না কোনও শিল্পকর্ম বা পুরনো নকশার উপাদান রয়েছে। আবার সেগুলোর সঙ্গে রয়েছে আধুনিক আসবাব ও আলো।

ফলে বাড়ির অন্দরসজ্জায় তৈরি হয়েছে এক ধরনের সময়ের সেতুবন্ধন। একদিকে ঐতিহ্য, অন্যদিকে আধুনিক জীবনযাপন।

অন্দরমহলে গণপতি, ধ্যানের জন্যও আলাদা জায়গা

ভাগ্যশ্রীর বাড়ির আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হলো গণপতির বিগ্রহ। এই জায়গাটি শুধু সাজসজ্জার অংশ নয়, অভিনেত্রীর কাছে এর রয়েছে ব্যক্তিগত গুরুত্বও। এখানে বসেই তিনি দীর্ঘ সময় ধ্যান করেন বলে জানিয়েছেন।

অর্থাৎ, বাড়ির অন্দরসজ্জায় শুধু সৌন্দর্য নয়, মানসিক প্রশান্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

দাবার ছকে বাগান, সঙ্গে প্রকৃতির ছোঁয়া

বাড়ির বাইরের অংশও কম আকর্ষণীয় নয়। ভাগ্যশ্রী তার বাগান সাজিয়েছেন জাপানি শিল্পশৈলীর অনুপ্রেরণায়। বাগানের নকশায় রয়েছে দাবার বোর্ডের মতো বিন্যাস। তার মধ্যে নানা ধরনের গাছপালা সাজানো হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। সবুজের পাশাপাশি রয়েছে বুদ্ধের মূর্তি, যা পুরো জায়গাটিকে আরও শান্ত ও ধ্যানমগ্ন আবহ দিয়েছে।

বাগানের এক প্রান্তে রয়েছে বসার ব্যবস্থাও। মন ভালো রাখতে সেখানে বেশ কিছুটা সময় কাটান ভাগ্যশ্রী।

ঘর সাজাতে চাইলে ভাগ্যশ্রীর কাছ থেকে কী শেখা যায়

ভাগ্যশ্রীর বাড়ির অন্দরসজ্জা থেকে একটি বিষয় বেশ স্পষ্ট, বিলাসবহুল ঘর মানেই যে সবকিছু দিয়ে ঘর ভরিয়ে ফেলতে হবে, তা নয়। বরং সঠিক রঙের ব্যবহার, আলো, কিছু নির্বাচিত শিল্পকর্ম, সবুজ গাছপালা এবং পুরনো-নতুন উপাদানের ভারসাম্যেই একটি বাড়িকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।

তার বাড়ির সাজে যেমন রয়েছে গাঢ় রঙের আসবাব, তেমনই রয়েছে হালকা রঙের আরামকেদারা। রয়েছে আধুনিক এলইডি আলো, আবার তার পাশেই প্রাচীন শিল্পের ছোঁয়া। রয়েছে বিলাসিতা, কিন্তু তার সঙ্গে প্রকৃতিরও নিবিড় সম্পর্ক।

সব মিলিয়ে ভাগ্যশ্রীর বাড়ি যেন একটি কথাই বলে, ঘর সুন্দর করতে শুধু দামি জিনিস নয়, দরকার রুচি, পরিমিতিবোধ আর নিজের ব্যক্তিত্বের ছাপ।