হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খাওয়া, সিঁড়ি থেকে পা মচকে যাওয়া কিংবা কোথাও ধাক্কা লাগা ইত্যাদি পায়ে আঘাত পাওয়ার ঘটনা হঠাৎই ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যথা ঠিক কোথায় লেগেছে, তা দেখার জন্য দ্রুত জুতো খুলে ফেলতে চান অনেকেই। কিন্তু চোটের পর সবচেয়ে জরুরি হল পা-টিকে যতটা সম্ভব স্থির রাখা এবং পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া।
আঘাতের পর পায়ে ফোলা, ব্যথা বা প্রদাহ শুরু হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে মচকানো বা নরম টিস্যুতে চোট লাগলে কিছু সময়ের মধ্যে ফোলাভাব আরও বাড়তে পারে। তাই জুতো খুলতে গিয়ে পা টানাটানি করা বা বারবার নাড়াচাড়া করা ঠিক নয়।
তবে জুতো পায়ে রাখলেই ফোলা আটকাবে, এমন কোনও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। বরং জুতো যদি খুব আঁটোসাঁটো হয়ে যায় বা পায়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তা হলে সেটি সাবধানে খুলে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।
চোট লাগার পর প্রথম কাজ কী?
ব্যথা পেয়েও অনেকে হাঁটতে থাকেন বা পায়ের উপর ভর দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। এই অভ্যাস এড়ানোই ভালো। চোটের মাত্রা না জানা পর্যন্ত আক্রান্ত পায়ে চাপ না দেওয়াই নিরাপদ। প্রথমে বসে বা শুয়ে পা-কে বিশ্রাম দিন। অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া যত কম হবে, ততই ভালো।
ফোলা কমাতে পা উঁচুতে রাখুন
পায়ে আঘাত লাগার পর ফোলাভাব দেখা দিলে পা শরীরের তুলনায় কিছুটা উঁচু করে রাখা যেতে পারে। বালিশের উপর পা রেখে বিশ্রাম নিলে আরাম মিলতে পারে।
বরফের সেঁক দিতে পারেন
আঘাতের পর ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে। তবে বরফ সরাসরি ত্বকের ওপর না রেখে পাতলা কাপড়ে মুড়ে ব্যবহার করা উচিত। একবারে প্রায় ১৫–২০ মিনিট ঠান্ডা সেঁক দিয়ে বিরতি নিন। দীর্ঘ সময় একটানা বরফ লাগিয়ে রাখা ঠিক নয়।
জুতো খুলতে হলে সতর্ক থাকুন
চোটের পর জুতো খুলতে গিয়ে যদি পা প্রচণ্ড ব্যথা করে, জোর করে টেনে খুলবেন না। বিশেষ করে পায়ের গঠন অস্বাভাবিক দেখালে, হাড় ভেঙে যাওয়ার সন্দেহ থাকলে বা পা নাড়াতে না পারলে অতিরিক্ত নড়াচড়া বিপজ্জনক হতে পারে।
অন্যদিকে জুতো যদি পা চেপে ধরে, ফোলা বাড়তে থাকে বা আঙুল অবশ হয়ে আসে, তখন চিকিৎসা সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি জুতো খোলার প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভব হলে অন্য কারও সাহায্যে ধীরে ধীরে খুলুন।
রক্তপাত হলে কী করবেন?
চোটের কারণে কেটে গিয়ে রক্ত পড়লে পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে জায়গাটিতে হালকা চাপ দিন। ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখাও জরুরি। রক্তপাত বন্ধ না হলে বা ক্ষত গভীর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
সব পায়ের চোট এক রকম নয়। সাধারণ মচকানো থেকে শুরু করে হাড় ভাঙা বিভিন্ন ধরনের আঘাত হতে পারে। তাই কয়েকটি লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন- পায়ের আকার অস্বাভাবিক হয়ে গেলে, প্রচণ্ড ব্যথা হলে বা ব্যথা ক্রমশ বাড়লে, পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে না পারলে, দ্রুত ফোলাভাব বাড়তে থাকলে, পা বা আঙুল অবশ, নীলচে কিংবা অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে গেলে, গুরুতর রক্তপাত বা গভীর ক্ষত হলে।
এসব ক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায়ে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পায়ে চোট লাগার পর আতঙ্কিত হয়ে বারবার জায়গাটি পরীক্ষা করতে গিয়ে পা নাড়াচাড়া না করা। প্রথমে বিশ্রাম, প্রয়োজন অনুযায়ী ঠান্ডা সেঁক ও পা উঁচু করে রাখা। তারপর চোটের মাত্রা বুঝে চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ পথ।