হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হতে পারে, এমন কোনো বই বিক্রি না করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। দুটি স্বাধীন বইয়ের দোকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের একদিন পর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হংকংয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক সচিব ক্রিস ট্যাং। তিনি বলেন, বই বিক্রেতাদের দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা যে তারা এমন কোনো বই বিক্রি করছেন না, যা জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে। তার ভাষায়, যেমন খাবার বিক্রির আগে তা নিরাপদ কি না নিশ্চিত করতে হয়, তেমনি বই বিক্রির ক্ষেত্রেও একই ধরনের দায়িত্ব রয়েছে।
বুধবার পুলিশ ‘হ্যাভ আ নাইস স্টে’ ও ‘গ্রিনফিল্ড বুক স্টোর’ নামে দুটি স্বাধীন বইয়ের দোকানে অভিযান চালায়। পাঁচজনকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক প্রকাশনা প্রদর্শন ও বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, এসব প্রকাশনার মাধ্যমে সরকার, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান।
নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকা প্রকাশ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রিস ট্যাং বলেন, সরকার এমন কোনো তালিকা প্রকাশ করবে না। তার মতে, এতে আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি হতে পারে এবং যারা দেশের ক্ষতি করতে চায়, তারা সুবিধা পেয়ে যেতে পারে।
এটি গত চার মাসে স্বাধীন বইয়ের দোকানকে লক্ষ্য করে পুলিশের তৃতীয় অভিযান। মার্চে বুক পাঞ্চ নামে একটি স্বাধীন বইয়ের দোকানের মালিক ও কর্মীদেরও রাষ্ট্রদ্রোহমূলক প্রকাশনা বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই প্রকাশনাগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রপন্থী গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের জীবনীও ছিল। জুন মাসেও একই ধরনের অভিযোগে আরও দুই বই বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেছেন, হংকংয়ে মতপ্রকাশ ও প্রকাশনার স্বাধীনতা ক্রমেই চাপে পড়ছে। তিনি বলেন, স্বাধীন চিন্তা রক্ষায় স্বাধীন বইয়ের দোকানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের উপমন্ত্রী লিয়াং ওয়েন-চিয়ে জানান, হংকংয়ের একটি বইমেলায় অংশ নিতে গিয়ে কিছু তাইওয়ানি প্রকাশক নিজেদের প্রকাশিত বইয়ের তালিকা থেকে কিছু বই স্বেচ্ছায় বাদ দিয়েছেন।