মাঠের বাইরের বিশ্বকাপ বুঝতে ৫টি অবশ্যপাঠ্য বই

লেখক ও সাংবাদিক লিয়ান্ডার শারলেকেন্স দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ফুটবল নিয়ে লেখালেখি করছেন। ইএসপিএন, ফক্স স্পোর্টস ও ইয়াহো স্পোর্টসের মতো জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলেও কাজ করেছেন। পরপর তিনটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল (পুরুষ) দলের কভারেজ করেছেন।

শারলেকেন্সের মতে, ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো মাঠের বাইরে এর সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব। ইতিহাসে একমাত্র ফুটবল খেলাকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যুদ্ধ থেমেছে, নতুন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। আবার কোনো কোনো শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীও হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে ফুটবলের প্রতি তার এই আকর্ষণের মূল কারণ এসব সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিসন্ধিগুলো। মাঠের খেলা যতই অসাধারণ হোক, ফুটবলকে বোঝার জন্য মাঠ সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় অংশ।

আজ থেকে শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। ফুটবলকে গভীরভাবে বুঝতে তিনি যে পাঁচটি বই পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো হলো—

ওয়ার্ল্ড কাপ ফিভার: আ সকার জার্নি ইন নাইন টুর্নামেন্টস
লেখক : সাইমন কুপার

বিশ্বকাপের আধুনিক ইতিহাস নিয়ে চমৎকার একটি বই। এতে বিশদ ভাবে লেখা আছে, কীভাবে একসময়ের তুলনামূলক সহজলভ্য টুর্নামেন্ট আজ ১১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আয়োজন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বইটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত ও সহজ পরিচিতিও তুলে ধরে।

এই বইয়ে কুপার এই বিশ্বকাপ কাভারের প্রস্তুতিপর্বে তার কাভার করা বিগত নয়টি বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।

ফুটবলকে সমাজ ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সাইমন কুপারকে পথিকৃৎ বলা হয়। ১৯৯৪ সালে তার বিখ্যাত বই 'সকার অ্যাগেইনস্ট দ্য এনেমি' প্রকাশিত হয়।


অ্যামাং দ্য থাগস
লেখক : বিল বাফোর্ড

১৯৮০–এর দশকে ইংল্যান্ডে ফুটবল হুলিগানদের উত্থান ছিল বড় একটি সামাজিক ঘটনা। সাংবাদিক বিল বুফোর্ড দীর্ঘ সময় ধরে সেই সহিংস সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিশে তাদের জীবনযাপন ও মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেছেন। কেন একদল তরুণ প্রতি সপ্তাহান্তে মদ্যপান ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়তো, সেসব কারণ তিনি বইতে অনুসন্ধান করেছেন।

আজকের ইউরোপীয় ফুটবলকে বোঝার জন্য বইটি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ না হলেও, ফুটবলের অতীত ও ফ্যানকালচার বোঝার জন্য অবশ্যপাঠ্য।


মিরাকল অব কাস্তেল দি সানগ্রো: আ টেল অব প্যাশন অ্যান্ড ফলি ইন দ্য হার্ট অব ইতালি
লেখক : জো ম্যাকগিনিস

লেখক জো ম্যাকগিনিস ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে ইতালির ছোট্ট শহর কাস্তেল দি সাংগ্রোর একটি ফুটবল দলের সঙ্গে পুরো মৌসুম কাটিয়েছিলেন। দলটি ইতালির দ্বিতীয় বিভাগ সিরি বি-তে জায়গা করে নিয়েছিল।  যদিও আর্থিক ও সাংগঠনিকভাবে তারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল মর্যাদা রক্ষা করা।

ম্যাকগিনিস দলের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সময় কাটিয়ে তাদের জীবন ও নানাবিধ সংগ্রামের কথা মানবিক জায়গা থেকে তুলে ধরেছেন। শেষপর্যন্ত বইটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, খেলাধুলার ক্ষেত্রে আমরা যাদের সমর্থন করি, তারা একদিন না একদিন আমাদের হৃদয় ভাঙবেই।


হাউ সকার এক্সপ্লেইন্স দ্য ওয়ার্ল্ড: অ্যান (আনলাইক্‌লি) থিওরি অব গ্লোবালাইজেশন
লেখক : ফ্র্যাঙ্কলিন ফোয়ের 

রাজনীতি ও ফুটবলের সম্পর্ক নিয়ে লেখা অন্যতম জনপ্রিয় বই।
লেখক ফ্র্যাঙ্কলিন ফোয়ার ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখেছেন। তিনি বলকান যুদ্ধের সময় আলোচিত সার্বিয়ার ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্কটল্যান্ডে ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট সমর্থকদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ব্রাজিলের ফুটবল প্রশাসনের নানা সমস্যা এবং ইউক্রেনে খেলা নাইজেরীয় ফুটবলারদের জীবনও তিনি তুলে ধরেছেন।

বইটিতে লেখক মিলান, বার্সেলোনা ও তেহরানের ফুটবল সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক তুলে ধরেছেন। তাছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ব ভিয়েনার একটি ইহুদি ক্লাব এবং আমেরিকার সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বেও উঠে এসেছে।

ব্রিলিয়ান্ট অরেঞ্জ: দ্য নিউরোটিক জিনিয়াস অব ডাচ সকার
লেখক : ডেভিড উইনার

১৯৭০-এর দশকে নেদারল্যান্ডস ‘টোটাল ফুটবল’ নামে এক নতুন ধারণার জন্ম দেয়। খেলোয়াড়দের অবস্থান পরিবর্তনের স্বাধীনতা, অবিরাম গতি এবং বলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার এই কৌশল আধুনিক ফুটবলের ভিত্তি গড়ে দেয়।

বইটিতে ডেভিড উইনার দেখানোর চেষ্টা করেছেন, ডাচ ফুটবলের সাফল্য ও ব্যর্থতা আসলে ডাচ সমাজের মানসিকতা ও সংস্কৃতিরই প্রতিফলন।

পুরুষ ও নারী দল মোট চারটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা সত্ত্বেও ডাচরা কখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। লেখকের মতে, এই বৈপরীত্যও নেদারল্যান্ডসের জাতীয় চরিত্রকে বোঝার একটি উপায়।