আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার জাপানি উপন্যাস 'উই'ল প্রেসক্রাইব ইউ আ ক্যাট'

যদি কোনো চিকিৎসক ওষুধের বদলে একটি বিড়াল প্রেসক্রাইব করেন? শুনতে অদ্ভুত লাগলেও জাপানি লেখক সিয়ো ইশিদার উপন্যাস 'উই'ল প্রেসক্রাইব ইউ আ ক্যাট' ঠিক এমনই এক গল্প বলে।

কিয়োটোর সরু গলির ভেতরে একটি পুরোনো ভবনের পঞ্চম তলায় রয়েছে রহস্যময় 'নাকাগিয়ো কোকোরো ক্লিনিক ফর দ্য সোল'। এই ক্লিনিকে সবাই যেতে পারে না। জীবনের কঠিন সংকটে পড়া, সত্যিকারের মানসিক আশ্রয় খুঁজতে থাকা মানুষই যেন কোনো না কোনোভাবে সেখানে পৌঁছে যায়।

ক্লিনিকে আসা রোগীরা সাধারণ ওষুধের আশা করেন। কিন্তু চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে থাকে একটি বিড়াল। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেই বিড়ালের সঙ্গে থাকতে হয়। প্রথমে বিষয়টি অদ্ভুত মনে হলেও ধীরে ধীরে তাদের জীবনে আসে পরিবর্তন।

উপন্যাসে এক হতাশ ব্যবসায়ী, কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য হারাতে বসা এক মধ্যবয়স্ক মানুষ, স্কুলজীবনের জটিলতার সঙ্গে লড়াই করা এক কিশোরী, আবেগ নিয়ন্ত্রণে সংগ্রাম করা এক ব্যাগ ডিজাইনার এবং প্রিয় বিড়ালকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে চাওয়া এক গেইশার গল্প উঠে এসেছে। তাদের সবার জীবনে বিড়ালগুলো একেকজন নীরব সঙ্গী হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গ থেকেই তারা খুঁজে পায় সুস্থ হওয়ার পথ, নিজের ভেতরের শক্তি এবং নতুন আশা।

বইটির মূল কথা, সুস্থ হয়ে ওঠা সব সময় বড় কোনো ঘটনার মাধ্যমে আসে না। অনেক সময় ছোট ছোট সম্পর্ক, নীরব সঙ্গ আর প্রতিদিনের যত্নই মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দেয়।

জাপানি লেখক সিয়ো ইশিদা

উপন্যাসে ইশিদা লিখেছেন, "একসঙ্গে কত দিন ছিলে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু কম সময় মানেই কম ভালোবাসা নয়। মানুষ হোক বা বিড়াল—কিছু সম্পর্ক কখনও বদলি হয় না, এমনকি তাদের আর কোনো দিন দেখা না হলেও।"

'উই'ল প্রেসক্রাইব ইউ আ ক্যাট' মনে করিয়ে দেয়, মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার পথে সহানুভূতি, সম্পর্ক এবং সঙ্গ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিড়াল ভালোবাসতেই হবে এমন নয়; মানুষ হিসেবে এই গল্পের উষ্ণতা অনুভব করলেই যথেষ্ট।

'নিউইয়র্ক জার্নাল অব বুকস'-এর মতে, "মানুষ ও প্রাণীর বন্ধন নিয়ে কল্পনাপ্রবণ ছয়টি গল্প। পোষা প্রাণীর নিরাময় করার শক্তি ও আত্ম-আবিষ্কারের যাত্রা জানতে বিড়ালপ্রেমীদের অবশ্যই এই বই পড়া উচিত।"