কখনও কখনও একটি বই শুধু গল্প বলে না, মানুষকে বেঁচে থাকার শক্তিও দেয়। আজার নাফিসির স্মৃতিকথা 'রিডিং লোলিতা ইন তেহরান' তেমনই একটি বই।
ইরানে ক্রমেই কঠোর হয়ে ওঠা মতাদর্শগত সেন্সরশিপের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দেন আজার নাফিসি। এরপর প্রতি বৃহস্পতিবার সকালে নিজের বাড়িতে সাতজন ছাত্রীকে নিয়ে ছোট্ট একটি পাঠচক্র গড়ে তোলেন। নৈতিকতা পুলিশের চোখ এড়িয়ে তারা বাধ্যতামূলক হিজাব খুলে বসতেন। তারপর পড়তেন নিষিদ্ধ পশ্চিমা সাহিত্য—ভ্লাদিমির নাবোকভ, এফ. স্কট ফিটজেরাল্ড, হেনরি জেমস ও জেন অস্টেনের বই।
নাফিসি লিখেছেন, "কোনো অবস্থাতেই কল্পকাহিনীকে বাস্তব জীবনের হুবহু অনুলিপি বানিয়ে তাকে ছোট করে দেখো না। কল্পকাহিনিতে আমরা বাস্তবতার অনুকরণ নয়, সত্যের গভীর উপলব্ধি খুঁজি।"
এই ভাবনাই বইটির মূল শক্তি। নাফিসি ও তার ছাত্রীরা 'ললিতা' বা 'দ্য গ্রেট গ্যাটসবি' পড়তেন নিজেদের জীবনের সঙ্গে গল্পের মিল খুঁজতে। এসব বইয়ের মাধ্যমে তারা বুঝতে চাইতেন ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বৈরশাসনের চরিত্র, মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং স্বাধীনতার মূল্য।
ধীরে ধীরে সেই ছোট্ট বসার ঘর শুধু একটি পাঠচক্র নয়, মুক্ত চিন্তার নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়। সেখানে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা ছিল প্রতিরোধের এক নীরব ভাষা।
'রিডিং লোলিতা ইন তেহরান' মনে করিয়ে দেয়, বই বাস্তবতাকে আরও গভীরভাবে বোঝার একটি মাধ্যম। ভালো সাহিত্য মানুষকে অন্যের জায়গায় দাঁড়াতে শেখায়, কঠিন প্রশ্ন করতে শেখায় এবং এমন এক মানসিক স্বাধীনতা দেয়, যা কোনো রাষ্ট্র বা শাসক কেড়ে নিতে পারে না।
বইটি সম্পর্কে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, "অসাধারণ। কল্পকাহিনির রূপান্তরকারী শক্তির পক্ষে এক শক্তিশালী বক্তব্য।" এবং কথাসাহিত্যিক মার্গারেট অ্যাটউডের ভাষায়, "ইরানের মৌলবাদী বাস্তবতায় এই বই যেন সাহিত্যের এক জীবনরক্ষাকারী ভেলা। সবারই এটি পড়া উচিত।"









