মুখ, আয়না ও আত্মপরিচয়ের ইতিহাস ‘দ্য ফেস : আ কালচারাল হিস্ট্রি’

সাহিত্য ডেস্ক
১৫ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫৪আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫৪

একজন মানুষকে আমরা কীভাবে চিনি? তার মুখ দেখে? নাকি তার ভেতরের মানুষটিকে? আমাদের মুখ কি কেবল শরীরের একটি অংশ, নাকি আমাদের পরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক? এমনই কিছু প্রশ্নকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে ইতিহাসবিদ ফে বাউন্ড-আলবার্টির বই ‘দ্য ফেস: আ কালচারাল হিস্ট্রি’।

লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক ফে বাউন্ড-আলবার্টি নিজেই 'প্রসোপ্যাগনোসিয়া' নামের একটি বিরল স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পক্ষে পরিচিত মানুষের মুখ মনে রাখা বা চিনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ পৃথিবীর আরেকটি ছোট অংশের মানুষের রয়েছে ঠিক উল্টো ক্ষমতা, তারা একবার কোনো মুখ দেখলেই সহজে ভুলে যান না। তাদের বলা হয় সুপার রিকগনাইজার। এই দুই বিপরীত অভিজ্ঞতাকে সূচনা হিসেবে ব্যবহার করলেও লেখক বইটিকে ব্যক্তিগত স্মৃতিকথায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি মানুষের মুখকে ঘিরে গড়ে ওঠা হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন।

মানুষের মুখ নিয়ে আমাদের ধারণা কখনোই স্থির ছিল না। প্রাগৈতিহাসিক যুগের ‘ভেনাস অব ব্রাসেমপুই’ ভাস্কর্য থেকে শুরু করে রেনেসাঁর প্রতিকৃতি, পাসপোর্টের ছবি, মুখভিত্তিক নজরদারি, প্লাস্টিক সার্জারি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম সৌন্দর্যের সংস্কৃতি—সবকিছুই এখানে একটি দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।

ইতিহাসবিদ ফে বাউন্ড-আলবার্টি
বইটির অন্যতম আকর্ষণীয় আলোচনা আয়নাকে ঘিরে। আজ আমরা দিনে অসংখ্যবার নিজের মুখ দেখি। কিন্তু ১৭শ শতাব্দীর আগে অধিকাংশ মানুষের সেই সুযোগ ছিল না। লেখকের প্রশ্ন, মানুষ যদি নিজের মুখ খুব কম দেখে, তাহলে তার আত্মপরিচয়, আত্মসচেতনতা ও নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হয়? এই প্রশ্ন থেকেই বইটি নতুনভাবে ভাবতে শেখায়—নিজেকে আমরা কতটা নিজের চোখে দেখি, আর কতটা অন্যের দৃষ্টিতে।

বইয়ের শেষাংশে লেখক বর্তমান সময়ের সৌন্দর্য-সংস্কৃতির দিকে নজর দেন। ফেসলিফট, বোটক্স, ফিলার, ফটো ফিল্টার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে একটি নির্দিষ্ট মুখের আদর্শ তৈরি করছে, তা তিনি বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষ ক্রমেই একই ধরনের চেহারা অর্জনের চেষ্টা করছে। ফলে বৈচিত্র্য কমছে ও মুখের মাধ্যমে ব্যক্তিকে আলাদা করে চেনাও কঠিন হয়ে উঠছে।

লেখক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন—মুখই কি আমাদের প্রকৃত পরিচয়? তার মতে, সমাজকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যেখানে মানুষের মূল্য তার চেহারা বদলে তার মানবিকতা, চিন্তা ও কাজ দিয়ে নির্ধারিত হবে। যদিও বর্তমান বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে।

প্রতিদিন আয়নায় নিজের মুখ দেখার অভ্যাসের মধ্যেও যে গভীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অর্থ লুকিয়ে আছে, ফে বাউন্ড-আলবার্টির বই সেই অদৃশ্য ইতিহাসকেই সামনে নিয়ে আসে। বইটি শেষ করার পর আয়নায় নিজের মুখের দিকে তাকানোর অভিজ্ঞতাও হয়তো আর আগের মতো থাকবে না।

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
আদিবাসীদের ইতিহাসের ভিন্ন পাঠ উমর খালিদের ‘ফ্র্যাকচার্ড কমিউনিটিজ’
৯১ বছরেও লিখে চলেছেন ‘কিকি’র স্রষ্টা
মুরাকামির নতুন বই সংগ্রহে মধ্যরাতেই ভক্তদের ভিড়
সর্বশেষ খবর
জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দায়বদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দায়বদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
রামপুরার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, উঠে এলো মরণাস্ত্র ব্যবহারের বর্ণনা
মানবতাবিরোধী অপরাধরামপুরার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, উঠে এলো মরণাস্ত্র ব্যবহারের বর্ণনা
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সময় বেঁধে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সময় বেঁধে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
মামুনুল হকের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার বৈঠক
মামুনুল হকের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার বৈঠক
সর্বাধিক পঠিত
২ মাসের শিশুর ভিডিও ভাইরাল, স্ত্রীর অপরাধে স্বামী-বাবা গ্রেফতার, কী ঘটেছিল
২ মাসের শিশুর ভিডিও ভাইরাল, স্ত্রীর অপরাধে স্বামী-বাবা গ্রেফতার, কী ঘটেছিল
আতঙ্কের নাম ডেভিড ইমন, কেন ধরতে পারছে না পুলিশ
আতঙ্কের নাম ডেভিড ইমন, কেন ধরতে পারছে না পুলিশ
এবার দুঃখ প্রকাশ করলেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান
এবার দুঃখ প্রকাশ করলেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান
ভালোবাসার মতো, অথচ ভালোবাসা নয়: নাম কী সে অনুভূতির
ভালোবাসার মতো, অথচ ভালোবাসা নয়: নাম কী সে অনুভূতির
মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে যা বললেন আহমাদিনেজাদ 
মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে যা বললেন আহমাদিনেজাদ