করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্য
এই দুই হাজার বিশ কার কার বিষ হবে তা আগেভাগে জানার জন্য মারাত্মক সুইট রিপন ইমরানের (দুজনের চেহারায় খুব মিল বলে বাদল দাদা বলেন, আমারা নাকি মেলায় হারানো ভাইবোন) পোস্টে বললেন, নিজ নিজ রাশি নিয়ে লিখতে। আমি মন্তব্যে লিখলাম, নিজের রাশি জানি না। সেখানে তিনি দিলেন কান্নার ইমো। ভাবলাম বছরের শুরুতে কাউকে কাঁদানো কি ঠিক? গুগল মামার দরজায় টোকা দিতেই তিনি ফেললেন মহা ফ্যাসাদে।
নিজের এবং মায়ের নামের অক্ষরের সংখ্যার মান বের করে, আলাদা আলাদা যোগ করতে হবে। দুই যোগফলের বিয়োগফলকে ২ দিয়ে গুণ করতে হবে। এতেই শেষ নয় কিন্তু। তাকে আবার ১২ মাস দিয়ে ভাগ শেষে অবশিষ্ট সংখ্যায় জোড় বিজোড়ের যে অংক ফেঁদে দিলেন তা আমি তো আমি আমার সবজান্তা পতিদেব মিলজার ভাইও পারবে না। সহজ কিছু খুঁজতে গিয়ে সামনে পড়লো আরেক গর্ত। এ যেনো-তেনো গর্ত নয় একেবারে পদ্মা নদীর গভীরে ডুব দিয়ে ইলিশ ধরার মতো কঠিন। পাশ্চাত্য মতে প্লাসিডাস হাউজ সিস্টেম। অরিজিনাল জন্ম-তারিখ লাগবে।
মুই কী হুনুরে? আমার জন্মতারিখ মনে রেখে কার কী? ইসসস আমি যেনো বিলাত থেকে এসেছি! তবুও একটা রাশি তো আমার পেতেই হবে আজ। সার্ভিস বুকের জন্মতারিখ হলো ০১/০২/১৯৭১ খ্রি.। সে অনুযায়ী আমি কুম্ভ। শনি গ্রহের জাতক। সেখানে লেখা আছে অবসাদ, নৈরাশ্য, মনের অস্থিরতা, গুপ্তবিদ্যায় ঝোঁক, গণিত, জ্যোতিষ বিজ্ঞানে পারদর্শী। অন্তরে যোগিনী ভাব প্রবল। খুব একা থাকতে পছন্দ করে।
কেমন লাগে? আপনারাই বলেন এটা কিছু হলো?
আমি বরাবরই অংকে টেনেটুনে পাশ করা একগাদা মানুষ নিয়ে হৈ-হুল্লোড় করা আকাইম্মা একটা মানুষ।
ধুর!
সম্ভাব্য কিছু পাবার জন্য অগত্যা মাকে ফোন করলাম। তিনি খুব চিন্তা করে বললেন, ‘তখন আমি নিজেও ছোটো ছিলাম তারিখটা ঠিক...তবে আমার ভীষণ শীত করছিলো মনে আছে। নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারিও হতে পারে।’ গুগল মামার ভাষ্য মতে বৃশ্চিক, মকর অথবা ধনু রাশি।
পাশ থেকে বাবা ফোনটা নিয়ে বললো, ‘তোর চলাফেরায় মনে হই তুই সিংহ রাশি।’ মা বললো, ‘মোটেই না, ও অনেক সংসারি, ও কন্যা রাশি মনে হয়। আর তা ছাড়া সে সময় বেশ ঠান্ডাও ছিলো।’ বাবা কথা কেড়ে নিয়ে বললো, ‘ওটা দূর্বলতার শীত। আমি ঝুম বৃষ্টির মধ্যে শশুরবাড়ি গেছি। শিলা জন্মেছে মে, জুনের দিকে।’
তাহলে কী দাড়ালো? আমি মিথুন অথবা কর্কট?
বুঝলাম বরকত মামার হেল্প ছাড়া কোনোভাবেই আমার রাশিফল উদ্ধার হবে না। মামার কাছে আমি এখনো শ্রেষ্ঠ মানবী। জন্ম থেকেই বেদম আদুরী। তিনি বললেন, 'তোর বাপ-মায়ের মাথা খারাপ। সেদিন খুব গরম ছিলো। আমি তুমুল ঝড় মাথায় করে, বস্তা মুড়ি দিয়ে, রান্টুর মাকে (দাই মা) ডেকে এনেছিলাম। রান্টু আমার পিঠে, আমি দৌড়াচ্ছি, চাচি আমার পেছনে... আমি নিশ্চিত সে সময়টা মার্চ কী এপ্রিল মাস।’ হা হা হা! বরকত মামার অনুমানের প্রেক্ষিতে আমি মেষ কিংবা বৃষ রাশি।
মাথা গুলিয়ে গুলতি আমার। উপায়ান্ত না দেখে পুরা বিষয়টা আমার বুদ্ধিমতী ছোটো বোন লিসার সঙ্গে শেয়ার করলাম। সব শুনে পুট করে বলে দিলো, ‘আপা তুমি তুলা রাশি।’ উহ! এতোক্ষণে মনে হলো হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
খুব কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম। কেউ বলতে পারলো না, তুই এতো সহজে কী করে বলে দিলি? বিজ্ঞের মতো ও বললো, ‘খুবই সহজ আপা। তোমার জার্নি বাই রাশিফলে তুলাই কেবল বাকি ছিলো।’