করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্য
বস্তিতে সবার সঙ্গে বিন্তির ভালো খাতির নেই। একটা বাসায় দুইবেলা রান্নার কাজ করে বাকি সময় মেয়েদের যত্ন নিতেই তার দিন পার হয়। আজ তিন বছর গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছে। গ্রামে চাষের জমি কমে যাওয়ায় বর্গা চাষীদের কাজ নেই। রিফাতের হাত ধরে মেয়ে দুটোকে নিয়ে পাকাপাকি শহরে আসা ছাড়া উপায়ও ছিলো না। হাসিখুশি রিফাত দারুণ কর্মঠ। শহরে এসেই রিকশা চালানো শুরু করে দেয়। কখনো কখনো ভাবে একদিন টাকা জমলে একটা মুদিদোকান দিয়ে বসবে। মেয়ে দুটোর একজন ক্লাস টুতে ভর্তি হয়েছে। বিন্তীর আয় যোগ হয়ে সংসার টেনেটুনে পার হয়ে যায়। মেয়ে দুটোকে কষ্ট করে হলেও শিক্ষিত করতে দুজনেই সমান ইচ্ছুক।
ঘরের একমাত্র চৌকিতে টিমটিমে লাইটের আলোয় মেয়ে দুটো পড়ছে। গণচুলায় রান্না করে ঘরে এনে পাতিল রাখতেই ছোট মেয়েটা ডেকে উঠলো, মা আর কতোক্ষণ পড়মু? রিফাত পাশে বসে হাতপাখা দিয়ে মেয়েদের বাতাস দিচ্ছে। একটা ছোট ফ্যান মাথার ওপর ঘুরলেও চালের গরম ঠান্ডা করতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। খুপড়ি ঘরে একটা ছোট্ট জানালা দিয়ে জবরদস্তি করে আকাশ দেখা গেলেও পূর্ণিমা কিংবা অমাবস্যা বোঝার মত ব্যুৎপত্তি রিফাতের এখনো হয়ে ওঠেনি। তবুও সে উঁকিঝুঁকি দেয়। তখনই খেতে বসে দুটো ডিম মাঝ বরাবর দু’ভাগ করে আলু দিয়ে পাতলা ঝোল আর কালোজিরার ভর্তা দেখে ছোট মেয়েটা গুনগুন করে কেঁদে ওঠে। রিফাত আকাশ থেকে চোখ সরিয়ে মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে বলে, ‘আইজ এইটাই খাও আম্মা। কাইল আমি দুই বেলা গাড়ি চালায়া তোমার লাইগ্যা একটা ফারোমের মুর্গা কিন্যা আনমু’। মেয়ে মাথা দুলিয়ে ভাতে হাত দেয়।
ভোরে আবার রান্নার কাজে যেতে হয়। বিন্তী ঝটপট মেয়েদের শুইয়ে হাতের কাজ শেষ করে মেঝেতে পাটি পেতে দিয়ে বাইরে যায়। রিফাত মাটিতে গড়িয়ে শুয়ে পড়ে। হাতপাখা নাড়িয়ে গলায় সুর তোলে: ‘লোকে বলে, বলে রে, ঘরবাড়ি ভালা না আমার’। বাবার কণ্ঠে প্রতিরাতে মরমী গান শুনতে শুনতেই মেয়ে দুটো ঘুমিয়ে পড়ে। গাইতে গাইতেই চোখ লেগে আসে রিফাতের। হঠাৎই চোখ খুলে যায়। পরিচিত জুঁই নারকেল তেলের সুবাস ভেসে আসে। ঘাড় ঘুরিয়ে সে দরজার দিকে ঝোলানো আয়নার দিকে চোখ দেয়। বিন্তী চুলে বেনী করা শেষ করেছে। চোখে সস্তার কাজল দিলো। একটা কালো টিপ।
রিফাত চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করছে। বাতি বন্ধ করে পাশের বালিশে মাটিতে শুয়ে পড়লো বিন্তী। এক হাত রিফাতের বুকের ওপর রেখে নিঃশ্বাস গাঢ় হচ্ছে। শান্তির ঘুম। রিফাত হাত বাড়িয়ে বউকে বুকে টেনে নেয়। প্রতি রাতে বিন্তীর পরিপাটি হয়ে শয্যায় আসার অপেক্ষা থাকে তার। বিন্তী উপুড় হয়ে তার মুখের সামনে মুখ এনে জানতে চায় গরম কি বেশি করতাছে? শইলডা মুইছ্যা দিমু? হ্যাঁচকা টানে রিফাত বিন্তীর অধর টেনে নেয়। পেশি ঠেলে ফুঁসে উঠছে ভেতরের দস্যুতা। বিন্তীর গলার চিকচিক করা ঘাম শুষে নেয় সে পরম মমতায়। আঙুলে যেনো সেতার। খেলে বেড়াচ্ছে। শোওয়ার আগে বিন্তীর শরীর ধোওয়ার অভ্যাস। গরমের আরামে অর্দ্ধ উন্মুক্ত দেহখানি হাতড়ে নাভিটায় ঠোঁট ছুঁয়ে দিতেই কেঁপে ওঠে বিন্তীর কৃশ শরীর। হাঁপড়ের ওঠানামার মাঝে ছোট মেয়েটা স্বপ্নে কেঁদে ওঠে। এক হাত বাড়িয়ে বিন্তী মেয়ের গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। আবারও হ্যাঁচকা টানে রিফাত তাকে পুরোপুরি দখল করে নেয়। চাষের জমিগুলো ভেসে ওঠে তার চোখে। হাঁপরের ওঠানামা শেষ হতেই তৃপ্ত দুটো শরীর জড়াজড়ি করে ঘেমে নেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে থাকে। ঠোঁটে এখনও ঝুলে আছে এক চিলতে চাঁদ।