করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্য
‘তুমি আছ জানি কিছু নেই আর, মৃত্যুতে আরও বেশি হয়েছ আমার’
আয়েশা আখতার মায়া (১৯৭২-২০১৫)
মতিকার বউ মারা যাওয়ার পর থেকে তার সেই দাপুটে স্বভাব আর নেই। আড্ডায়ও অনিয়মিত। বাসার সামনের বাগান পরিচর্যা করা, চিতাকে খাওয়ানো-গোসল করানো, গান শোনা, টিভিতে নিয়মিত খবর-টকশো-মুভি দেখা আর মাঝেমধ্যে মুমুর সঙ্গে ভাইবারে কথা বলা এসবেই মতিকার সময় যায়। করোনাভাইরাস লন্ডনে বিস্তৃত হওয়ার পর এখন মুমুর সঙ্গে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় কথা হয়। লকডাউন লন্ডন। মুমু একা রুমে। মতিকা সারাক্ষণ ওয়ার্ডওমিটার সাইট ওপেন করে রাখে। কিছুক্ষণ পরপর দেখে লন্ডনে বর্তমান একটিভ কেস কত আর মৃত্যু সংখ্যা কত। মুমুও বাবাকে নিয়ে অস্থির। সারাক্ষণ শুধু উপদেশ—বাহিরে যাবে না, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোবে, পানি বেশি খাও, ফ্রুটস খাও, টাইমলি খাও-ঘুমাও ব্লা ব্লা।
আজ পহেলা বৈশাখ। এই ভোরে মুমুকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে মতিকার। ভাইবারে দুইবার কল দিল কিন্তু ওপাশে মুমুর কোনো সাড়া নেই।। হয়তো ঘুম। লন্ডনে এখন রাত ১টা ১৩মি। মতিকা শুয়ে শুয়ে মুমুকে দীর্ঘ এসএমএস লিখছে—
তোর মা প্রতি বৈশাখে ভোরে উঠে নতুন শাড়ি পরত আর শাড়ির রঙে একটা গোল টিপ দিত কপালে। ঈদে তাকে শাড়ি না দিলেও বৈশাখে একটা শাড়ি তার চাই। একবার একটা জলপাই রঙের শাড়ি কিনে দিয়েছিলাম। তোর মায়ের প্রিয় রং। এমন খুশি হতে তাকে কোনোদিন দেখিনি। অল্পতেই খুশি হতে পারত। সেদিন খুশিতে জাপটে ধরে একটা চুমুও খেয়েছিল। আমার খুব মনে হয় মৃত্যুর পর তোর মায়ের সঙ্গে আবার দেখা হবে। আমরা একসঙ্গে চা খাব আর সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া করব। তোর কি মাকে দেখতে ইচ্ছে করে নারে মুমু...
মুমুর ঘুম ভাঙলে যথারীতি মোবাইল চেক করে। ভাইবারে নোটিফিকেশন। বাবার দুটি কল আর দীর্ঘ এসএমএস। এসএমএস পড়তে পড়তে মুমুর চোখের দুকোণ থেকে জল নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই বাবাকে কল করে মুমু কিন্তু ওপাশে কেউ রিসিভ করে না। ভেবে নেয় হয়তো ঘুম বা ওয়াশরুমে। জানালা থেকে দেখতে পায় লাল টিউলিপ আর হলুদ ড্যাফোডিল ফুটেছে। মুমু ছবি তুলে ভাইবারে বাবাকে পাঠিয়ে দেয় সেই লাল টিউলিপ আর হলুদ ড্যাফোডিল সঙ্গে লিখে দেয় শুভ নববর্ষ বাবা।