জাপানের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হারুকি মুরাকামির নতুন উপন্যাস ‘দ্য টেল অব কাহো’ প্রকাশ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে টোকিওর একটি বড়ো বইয়ের দোকানের সামনে ভক্তদের দীর্ঘ অপেক্ষা দেখা গেছে। বইটি বাজারে আসার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই পাঠকেরা সেখানে জড়ো হন, যাতে রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম কপিটি সংগ্রহ করতে পারেন।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শিনচোশার তথ্য অনুযায়ী, ‘দ্য টেল অব কাহো’ মুরাকামির প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন একাকী নারী। উপন্যাসের নায়িকা কাহো পেশায় শিশুতোষ বইয়ের লেখক। আপাতদৃষ্টিতে তিনি একজন সাধারণ তরুণী হলেও, তার চারপাশে একের পর এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করে।
উপন্যাসটি সম্পর্কে প্রকাশকের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় মুরাকামি বলেন, “কাহো একজন সাধারণ তরুণী। কিন্তু তার চারপাশে সত্যিই অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে থাকে। আমি নিজেকে তার জায়গায় কল্পনা করেই এই উপন্যাসটি লিখেছি।”
মুরাকামির এই মন্তব্য বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ তার অধিকাংশ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র তরুণ বা মধ্যবয়স্ক পুরুষ। ফলে নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই নতুন উপন্যাস নিয়ে পাঠকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
মধ্যরাতের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রথম ক্রেতাদের একজন নাওইউকি ইয়ামানো বলেন, “নারী প্রধান চরিত্রকে ঘিরে গল্পটি কীভাবে এগোয়, তা জানার জন্য আমি খুবই উৎসুক।”
উপন্যাসটির সূচনা হয়েছিল ‘কাহো’ শিরোনামের একটি ছোটোগল্প হিসেবে। দুই বছর আগে টোকিওর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক পাঠ অনুষ্ঠানে মুরাকামি গল্পটি পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে ছিলেন খ্যাতিমান জাপানি লেখক মিয়েকো কাওয়াকামি। পরে ২০২৪ সালের জুন মাসে মাসিক ‘শিনচো’ সাময়িকীতে গল্পটি প্রকাশিত হয়।
মুরাকামির নতুন এই উপন্যাস ইতোমধ্যেই জাপানের সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের ধারণা, নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত হওয়ায় এটি তার সাহিত্যজীবনের একটি নতুন মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।









