ছাদ

করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্য78বিকেলে ঘুম থেকে জেগেই ইরাবতী বলে ‘ছাদ যাব’ মা, ‘ছাদ যাব’। ছাদে যাবার আবদার পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সে বিছানা থেকে নামবে না। আর করবেই না কেন, আড়াই বছরের ইরাবতীর কাছে সারাদিন পর ছাদই একমাত্র বাতাস-ঘ্রাণ-কাক-গাছ-আকাশ দেখার জায়গা। তরু মেয়ের থেকে চোখ সরিয়ে জানালার দিকে তাকায়। বিকেলের পড়ন্ত আলো কেমন বিষণ্ন আভা ফুটিয়ে তুলেছে। গলিটাকে মনে হচ্ছে কে যেন উপর্যুপরি খুবলে খেয়ে ফেলে গেছে। কোনো প্রাণ নেই। ইরাবতীকে বুকে টেনে তাকে বলবার চেষ্টা করে তরু। বাইরে গেলে করোনা ধরবে মা। মেয়ে জোরে বলে, করোনা চলে গেছে, ছাদ যাব, ছাদ যাব।

মেয়েকে বুকে নিয়ে তার কনসেট্রেশন পরিবর্তনের আরও চেষ্টা করতে থাকে তরু। দুই হাতে দুই স্কেল নিয়ে—এবরেকা ড্যাবরেকা হিং ছিং ছট বলে জাদু দেখাতে থাকে। এইবারে এসে গেল, এইবারেতে এসো—সোনার টোপর মাথায় দিয়ে—দেখো দেখো একটা সিংহ আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে বাঘমামাটা কী করছে দেখো দুটো ছানা নিয়ে আর ওদিকে ঝোপের মধ্যে থেকে দেখো জেরি বেরিয়ে এল। পালাও পালাও। ডাইনোসরও আসছে দেখি। ইরাবতী সত্যিই একটা ডাইনোসর দেখে কিনা তরু জানে না; কিন্তুবিছানা থেকে নেমে দৌড় দেয়। আবার দৌড়ে তরুর বুকে ফিরে আসে। কোলের মধ্যে বসে আবারও প্রশ্ন, মা ওরা তো জঙ্গলে ওদের করোনা ধরবে না? মেয়ের প্রশ্নে বিস্মিত তরু বলে ফেলে জঙ্গলে করোনা থাকে না। ইরাবতী এবার পাল্টা বলে, ‘আমি জঙ্গলে যাব!’