কবে খুলবে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়?

দীর্ঘ ১৭ মাস ২৫ দিন বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলেছে দেশের প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলতেও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) প্রশাসন শিক্ষার্থীদের থেকে কয়েক ধাপে টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে। তবে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনীহা লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের তথ্য দিতে অনীহার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে বিলম্ব হতে পারে। কারণ টিকা গ্রহণের তথ্যের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ বলছে, করোনার টিকা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য অনলাইনে লিঙ্ক তৈরির মাধ্যমে কয়েক ধাপে শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য চেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী তথ্য দেয়নি। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে তথ্য এসেছে সাত হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর। অথচ শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।

এ ছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে চাওয়া হয়েছিল। সেখানে তথ্য দিয়েছে ৪৬৮ জন। তাদের তথ্য ইতোমধ্যে ইউজিসির কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, এখনও টিকা পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীরা। কয়েক দফা তথ্য দিয়েও নিবন্ধন করতে পারেননি তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হলের সুপার সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, বর্তমানে ৪০ বিদেশি শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্ড না থাকায় একটু জটিলতা আছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সব বিদেশি শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট নম্বর, শিক্ষার্থীর নাম ও ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দিয়েছি।

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য আমরা ইউজিসিতে পাঠিয়েছি। করোনার টিকার রেজিস্ট্রেশনের জন্য তৈরি সুরক্ষা অ্যাপে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অপশন না থাকায় প্রাথমিকভাবে আবেদন করতে পারেননি। তবে খুব দ্রুতই বিদেশি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি। 

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার একার পক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। খুব শিগগিরই ৫৮তম একাডেমিক কাউন্সিল বসবে। সংগৃহীত সব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই একাডেমিক কাউন্সিল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। 

গত ১৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বৈঠক শেষে জানানো হয়, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন কাজ শেষ করা হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু ও আবাসিক হল খুলতে পারবে। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বৈঠকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, কোভিড-১৯ সম্পর্কিত কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের কর্মকর্তারা।