রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবার ও সহকর্মীরা।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষে মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বধীন আপিল বিভাগ এই রায় দেয়।
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক তাহেরের মেয়ে সেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায়ে আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে স্বস্তি প্রকাশ করছি। এর মাধ্যমে সত্যের জয় হয়েছে। তবে রায় কার্যকর হলে আমরা আরও সন্তুষ্ট হবো।’
আরও পড়ুন: অধ্যাপক তাহের হত্যা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে হলেও আজকের এই রায়ের মাধ্যমে সত্য প্রকাশিত হয়েছে। যারা বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল, তারা আজ দেখলো সত্য কোনটা। ড. তাহের স্যারকে যে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে সেটার বিচার হয়েছে।’
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়াম্যান অধ্যাপক সোহাইল কবির বলেন, ‘আমরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি।’
২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারের ম্যানহোল থেকে অধ্যাপক তাহেরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
অধ্যাপক তাহের হত্যা মামলায় ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালত ৪ জনকে ফাঁসির আদেশ ও ২ জনকে বেকসুর খালাস দেন।
খালাসপ্রাপ্ত চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি হলেন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও আজিমুদ্দিন মুন্সী। ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ এই ছয় জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছিল পুলিশ।
পরে নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেন। সেসব আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল অধ্যাপক তাহের হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল এবং অন্য দুই আসামির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন হাইকোর্ট।
ফাঁসির দণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন—একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও ড. তাহেরের বাসার কেয়ারটেকার মো. জাহাঙ্গীর আলম। যে দুই জনের ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন—জাহাঙ্গীর আলমের ভাই নাজমুল আলম ও নাজমুল আলমের সমন্ধি আব্দুস সালাম।