শিরিন ম্যানশনে বিস্ফোরণ: সবার আগে ছুটে যান ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে বিস্ফোরণের পর সবার আগে উদ্ধারকাজে নেমেছেন ঢাকা কলেজের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউট সদস্যরা। স্বেচ্ছায় মানবিকতার তাড়নায় থেকে উদ্ধারকাজে এগিয়ে যান তারা।

রবিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে মিরপুর রোড সড়ক সংলগ্ন সায়েন্স ল্যাবরেটরির সুকন্যা টাওয়ারের পাশের শিরিন ম্যানশনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার কাজে ভূমিকা পালন করার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দল নেতা মুনতাসির ফাহাদ বলেন, যেকোনও দুর্যোগ, দুর্ভোগ সেখানেই হাজির হয় ঢাকা কলেজ রেড ক্রিসেন্ট। মানবতার সেবায় কাজ করার ব্রত নিয়ে কাজ করি আমরা।

তিনি আরও বলেন, এখানে মানবতার তাগিদে আমরা ছুটে গিয়েছি। ঘটনাস্থলে আমরা সাধারণ মানুষ, পথচারী, গাড়ি চালক,  সাংবাদিকবৃন্দসহ অনেকে আহত হন। তাদেরকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। যারা আশঙ্কাজনক তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছি।

ধাকা-কলেজ

আজ সকালে সায়েন্স ল্যাবরেটরির শিরিন ম্যানশনে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে তিন তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের আংশিক দেয়াল। শব্দ শোনা মাত্রই ক্লাস থেকে ছুটে যান ঢাকা কলেজের আরেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোভার স্কাউটের সদস্যরা।

জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের রোভার স্কাউটের এআরএম তাসকিন আহমেদ কাজল বলেন, আমরা যারা রোভার স্কাউটে কাজ করি। তাই সবাই সর্বদা প্রস্তুত থাকি যেকোনও মুহূর্তে কারও বিপদে  স্বেচ্ছায় সেবা দেওয়ার জন্য। আমরা  যখন শুনেছি, সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে বিস্ফোরণ হয়েছে তখন আমরা ক্লাস বাদ দিয়ে উদ্ধার কাজের জন্য দৌড়ে গেলাম।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আমাদের ছেলেরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে গিয়েছিল। তারা যেকোনও দুর্যোগে ভালো ভূমিকা পালন করে। সাভারে রানা প্লাজার ঘটনায় সর্বপ্রথম ঢাকা কলেজের স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে যায়। কিন্তু তারপরও সবাই ঢাকা কলেজের বদনাম করে।

উল্লেখ্য, বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন জন নিহত হন। ১৪ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে আট জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এবং দগ্ধ ছয় জনকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।