ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৩তম উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম পদত্যাগ করেন। এর পরপরই একদিকে যেমন ইবি ক্যাম্পাসে অভিভাবকশূন্যতা বিরাজমান, অপরদিকে কে হতে যাচ্ছেন আগামীর অভিভাবক এমন আলোচনাও চলছে সর্বমহলে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা জল্পনা-কল্পনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে সরগরম পরিবেশ।
তবে এসবের ভিড়ে দুই দফা আন্দোলন করে নিজ ক্যাম্পাসের শিক্ষককেই পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে দেখতে চেয়েছেন কতিপয় শিক্ষার্থী। কিন্তু নিজ ক্যাম্পাসের শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে দেখতে চাওয়ার মতো ইবির অভ্যন্তরীণ ইস্যুর এ আন্দোলনে কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলপড়ুয়া ও বহিরাগতদের দেখা গেছে বলে অভিযোগ এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘কোটা পুনর্বহাল করা চলবে না (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)’ গ্রুপে রবিবার (২৫ আগস্ট) রাতে একাধিককে চিহ্নিত করে এমন পোস্ট করেন এনামুল হোসাইন নামে এক শিক্ষার্থী। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বহিরাগত কোনও স্কুলশিক্ষার্থী যদি ইবির ভিসি নিয়ে কথা বলতে আসে এর থেকে লজ্জার কিছু নেই। নিউজে দেখেছি ইবির স্থানীয় বিতর্কিত ভিসিপ্রার্থীরা ছাত্রদলের মদতে এসব করাচ্ছে। যা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়!’
পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় তাজমিন খান নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘এমন স্বাধীনতাই কি চেয়েছিলাম? শেখপাড়ার মানুষ এসে আমাদের ভিসি চয়েজ করে দিচ্ছে।’
এনামুল হক পুলক নামের অন্য আরেকজন লেখেন, ‘আপনারা কি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও স্যারকে ভিসি হওয়ার যোগ্য মনে করেন না? বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু আমাদের ভিসিও হবে আমাদের কোনও শিক্ষক, এটাই হওয়া উচিত। তাহলে এত জট থাকবে না। নিজের ব্যথা অন্যকে দিয়ে খোঁজার চেয়ে নিজে খোঁজ করা অনেক ভালো এবং কার্যকরী।’
এ বিষয়ে পোস্টদাতা এনামুল হোসাইনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘ভিসি ক্যাম্পাস থেকে হবে এমন আন্দোলন হতেই পারে। যে দল ইচ্ছে করতে পারে। কিন্তু প্রথমত যে স্যারের নাম এসেছে, উনি বিতর্কিত এবং আন্দোলনে যারা এসেছে অধিকাংশ স্কুলপড়ুয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সর্বজনীন আন্দোলনে যে কেউ অংশ নিতে পারে। কিন্তু ভিসি নিয়োগ আন্দোলনে যদি স্কুলশিক্ষার্থীরা আসে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মান আর থাকলো কোথায়?’