জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের খোঁজ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। এর এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধান মেলে তার। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেটের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় তাকে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি কেরানীগঞ্জ থেকে এখানে এসেছি। আমার মাথা এখন কাজ করছে না। আমি জানাতে পারছি না।”
নিখোঁজের বাবা আবুল কালাম বলেন, “আমাকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়, আমি সিরাজ, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে আছি’। তখন আমি বলি ‘আমি ভার্সিটিতে আছি’। জবাবে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে আমি ভার্সিটির দিকে আসতেছি’। পরে জানা যায়, তিনি ভার্সিটির গেটে গিয়ে অসুস্থ বোধ করায় সেখান থেকে চলে যান। এরপর সিরাজের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। এখনও এ বিষয়ে তার সঙ্গে বিস্তারিত কোনও কথা হয়নি। ঘটনাটি হাজারীবাগ এলাকায় ঘটেছিল। যত দূর জানা গেছে, তিনি কোনও ধরনের হয়রানির শিকার হননি। সবাই বিভিন্নভাবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। দায়িত্বে থাকা এসআইও যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। তিনি সারা দিন বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন এবং আমাদের কোনও ধরনের হয়রানি করেননি।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “শিক্ষার্থী সিরাজ কয়েক দিন নিখোঁজ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগে ছিল। বিষয়টি জানার পরপরই প্রশাসন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাংবাদিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয় এবং প্রক্টরের নেতৃত্বে একটি টিম ধানমন্ডি থানায় কাজ করে।” সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিরাজকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।