দিল্লির পথে প্রধানমন্ত্রী

দিল্লি যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী (ছবি: ফোকাস বাংলা)
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের রাজধানী দিল্লির পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে বোয়িং আকাশ প্রদীপে করে হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ সম ফিরোজ, তিন বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান। দিল্লিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর পালাম স্টেশনে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখানে ভারতের ভারি শিল্প, পাবলিক অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়া এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্যদিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা এ সফরে যাচ্ছেন।

দু’দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আসন্ন এ সফর ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত এবং দু’দেশের নেতৃত্বের মধ্যে আস্থা ও বন্ধন শক্তিশালী হবে।

পালাম স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে অবস্থান করবেন।দিল্লি যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী (ছবি: ফোকাস বাংলা)

শেখ হাসিনা দিল্লিতে পৌঁছার পরপরই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তার সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর সন্ধ্যায় দিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে তাকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সংবর্ধনায় কূটনীতিক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন বলে হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে।

দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার ফরিদ হোসেনের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, ৮ এপ্রিল এখানে হায়দ্রাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার পর একগুচ্ছ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এসময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীর হিন্দি সংস্করণ উন্মোচন করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

বিকালে মহান মু্ক্তিযুদ্ধে শাহাদৎ বরণকারী ভারতীয় সৈনিকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মুক্তিযুদ্ধে নিহত ৭ শহীদ ভারতীয় সেনা পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননাপত্র প্রদান করবেন।

৯ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী আজমীর শরীফ যাবেন। সেখানে খাজা মঈনউদ্দিন চিশতি (রহঃ)-এর দরগাহ শরীফ জিয়ারত করবেন। একইদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা করবেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত এক নৈশভোজে যোগ দেবেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

১০ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে দিল্লি ত্যাগ করবেন। সূত্র: বাসস।

/এফএস/ 

আরও পড়ুন- 


প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: পানি নিয়ে ‘ঘোলা জল’ পরিস্থিতি