ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের ফলাফল যুদ্ধের ময়দানে নয়, আলোচনার টেবিলে ঠিক হবে। এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিরপেক্ষ দেশের সুযোগ বেশি। মঙ্গলবার (৭ জুন) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কূটনীতির গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা একথা বলেন।
সেমিনারে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘কূটনীতিকে সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু কোনও দেশের পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্য যদি সংঘাত নিরসনের জন্য না হয়, তবে কূটনীতি কোনও কাজে আসবে না।’
তিনি বলেন, ‘কেউ যদি প্রশ্ন করে যুদ্ধে কে জিতছে? নিশ্চিতভাবে কোনও উত্তর দেওয়া যাবে না। কিন্তু যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, কে ক্ষতিগ্রস্ত? উত্তর হবে— সবাই। এমনকি আমরা বাংলাদেশে যারা আছি তারাও ক্ষতিগ্রস্ত।’
রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদি পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার উদ্বেগকে স্বীকৃতি না দেয়, তবে কোনও সংলাপ সফল হবে না।’
তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, ‘যুদ্ধ থামানো, জীবন বাঁচানো এবং আন্তর্জাতিক আইনের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা ও সংলাপ অত্যন্ত জরুরি।’
‘কূটনৈতিকভাবে দুই পক্ষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। যাতে শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব বন্ধ হয়।’ জানান তিনি।
মোস্তফা ওসমান আরও বলেন, ‘দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়েছে মার্চে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিভিন্ন জায়গায় সহিংস যুদ্ধের কারণে সংলাপ ভেঙে যায়। তবে একদম বন্ধ হয়ে যায়নি।’
সেমিনারে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার বিকেনতিভিচ ম্যানটিটস্কি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া তার বৈধ নিরাপত্তার উদ্বেগের বিষয়টি জানিয়ে আসছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলাপ করেছি— ইউক্রেন যেন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। কিন্তু সেটা হয়নি। যে কারণে আজ সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে।’
আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৯৭ সালে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল যে, আমরা একে অপরের শত্রু হবো না এবং অন্যের জন্য ঝুঁকি হয় এমনভাবে আমরা নিরাপত্তা বাড়াবো না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যরা এই সমঝোতা মানেনি।’
তিনি বলেন, ‘সংলাপে বসবো না, এটি কখনোই বলিনি। তবে, এটি ফলদায়ক হতে হলে কিয়েভকে গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না।’
অধ্যাপক শেখ তৌফিক এম হকের সঞ্চালনায় সেমিনারে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর আব্দুল ওয়াহাব।