জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের ঢাকা সফর সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।
মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যাচেলেটের ঢাকা সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি এই সফরটি অবশ্যই সফল হয়েছে। আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, সেগুলো পূরণ হয়েছে। কিছু মানুষের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। আশা করি তারা এই পন্থা পরিহার করবেন এবং আন্তর্জাতিক বন্ধু সম্প্রদায়কে শুধু শুধু বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘সামনে মানবাধিকার ইস্যুগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো আছে এবং তিনি কনভিন্সড যে বাংলাদেশের যে দৃঢ় ইচ্ছা, যে সক্ষমতা আছে, এগুলো দিয়ে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো।’
শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সংস্থা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এবং সেই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত লবিয়িস্টরা অব্যাহতভাবে ভুল তথ্য দিতে থাকে।’
২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনের পরে বলা হয়েছিল, অনেক মানুষ মারা গেছে এবং পরবর্তীকালে তালিকা চাইলে তারা দিতে পারেনি। ওই বানোয়াট রিপোর্ট তারা বিভিন্ন জায়গায় দিয়েছে বলে তিনি জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একইভাবে ৭৬ জন গুম হয়েছে বলে জাতিসংঘকে তালিকা দেওয়া হয়েছিল এবং এরমধ্যে ১০ জনকে খুঁজে পাওয়া গেছে। বাকি যে ৬৬ জন আছেন, তারমধ্যে ২৮ জন দাগী আসামি এবং স্বাভাবিকভাবেই তারা পালিয়ে থাকার চেষ্টায় থাকবে। তবে বাকিদের খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে।’
বিরোধী রাজনৈতিক দল
তথাকথিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ‘বোকার স্বর্গে’ বাস করছে। তাদের কোনও ধারণা নেই যে বিশ্ব এবং জাতিসংঘ কীভাবে পরিচালিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনও কোনও রাজনৈতিক দল তার (ব্যাচেলেটের) সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন যে এ ধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি আসেননি।’
তিনি বলেন, ‘তথাকথিত বিরোধী দলগুলোর একটির ভুল ধারণা আছে যে এই মানুষটির কাছে অনেক কিছু বললে, তাদের অনেক দাবি আদায় হয়ে যাবে। তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন। বিশ্ব কীভাবে পরিচালিত হয়, জাতিসংঘ কীভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে তাদের বিন্দু বিসর্গ ধারণা না থাকার কারণে তার কাছে দাবিগুলো উপস্থাপন করেছে।’
সুশীল সমাজের একটি ছোট প্রতিনিধি দল ব্যাচেলেটের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের একজন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরকারকে কতিপয় বিষয়ে বাধ্য করতে সুনির্দিষ্ট দাবি করেছিল জানিয়ে শাহরিয়ার বলেন, ‘তিনি (মিশেল) পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন যে তার ম্যান্ডেটে নির্বাচন নিয়ে, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কীভাবে হবে—এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।’
ব্যাচেলেটের সফরের সময়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার চালায় এবং বিএনপি অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে গেলো। এটি করার উদ্দেশ্য ছিল—বিষয়টি যেন ব্যাচেলেট জানতে পারেন বলে তিনি জানান।
কেউ সবসময় সঠিক হয় না
বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশ সবসময় সঠিক আচরণ করতে পারে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও সবসময় সঠিক নই। কোনও দেশই সবসময় ঠিক আচরণ করতে পারে না। এটি হলে আমাদের ৫০ বছর কষ্ট করতে হতো না। ৫০০ বছরের পুরনো গণতন্ত্রের যে চ্যালেঞ্জ, সেটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জের থেকে কম নয়।’
মিশেল ব্যাচেলেটের বাংলাদেশে সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে অনেক ইতিবাচক কথা বলা আছে জানিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিবাসন নিয়ে এবং মানবাধিকার নিয়ে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যেটি অনেক মিডিয়া বলেনি।’