মেগা প্রকল্প করার পরও স্বস্তি নেই দুর্ঘটনার কারণে: ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্প হয়েছে। এই মেগা প্রকল্প করাসহ এত উন্নয়ন করার পরও স্বস্তি পাচ্ছিলাম না শুধু দুর্ঘটনার কারণে।

বুধবার (১৪ জুন) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের দেশে যে পরিমাণ সড়ক দুর্ঘটনা হয়, তা কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছি। এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যতই উন্নয়ন করি, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস, একদিনে ১০০ সেতু উদ্বোধন করি, তারপরও যখন দুর্ঘটনার খবর দেখি, তখন মনটা বিষণ্ন হয়ে যায়।

এটা অত্যন্ত কষ্টের। আমরা মন্ত্রী হলেও তো মানুষ। এ দুর্ঘটনা আমাদের মনে কষ্ট দেয়। এত মেগা প্রজেক্ট, এত উন্নয়ন করার পরও স্বস্তি পাচ্ছিলাম না দুর্ঘটনার কারণে। কেন হবে? আমরা কি এটা এড়াতে পারি না?

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের ৩৫ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক ক্ষতি হয়। আমাদের ভাবনার চেয়ে বাস্তবায়ন খুবই ধীরগতি।

দেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা হয়, তা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এতে কষ্ট বাড়ে, সময়ও বাড়ে। বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্টের অংশীদার হওয়ায় বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বব্যাংক যে সম্মান দেখিয়েছে এবং বাজেটে যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, অর্থ দিয়ে বিশ্বব্যাংক ইচ্ছে করলে পদ্মা সেতুতে জড়িত থাকতে পারতো। কিছু দুর্নীতির অভিযোগ এনে তারা সরে গিয়েছিল। এখানে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে এ জন্য শুধু বিশ্বব্যাংককে দায়ী করা যাবে না। দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার পেছনে আমাদের দেশের কিছু বাঘা বাঘা ব্যক্তিও জড়িত ছিল।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি অপরাধ ও অপারেশন আতিকুল ইসলাম, বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের রোড সেফটি প্রজেক্টের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট দীপন বোস।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর সভাপতিত্বে রোড সেফটি নিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ট্রান্সপোর্ট প্র্যাকটিস ম্যানেজার ফেই ডেং, বাংলাদেশ ও ভারতের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুলায়ে সেক, বিশ্বব্যাংকের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ভাইস প্রেসিডেন্ট গুয়ানজে চেন।

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।