প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেছেন, যারা দেশের সাম্প্রাদায়িক পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খল করে তোলা এবং সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, তাদের জেনে রাখা দরকার সরকার খুব নিবিড়ভাবে দেশের সব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের আয়োজন হচ্ছে। নিয়মিত বোঝা-পড়া হচ্ছে। সরকার তাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ওপেন আছে। দেশি-বিদেশি কোনও ষড়যন্ত্রকারী স্পেস পাবে না, এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
মাহফুজ বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা পরিচালনা ও আর্থিক সহায়তায় সরকার এগিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, ‘গত দুই মাসে হিন্দু সম্প্রদায় যেসব দাবি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছে, আমরা সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে তাদের দাবিগুলোর সঙ্গে কাজ করে যেতে পারি আমরা সে চেষ্টা করেছি। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন জায়গায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হিন্দুসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে। ওই সময় সরকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জনতা এসব হামলা-সংঘাত রুখে দিতে চেষ্টা করেছে। এরপরও অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে আমরা তাদের সাহায্য-সহযোগিতার চেষ্টা করবো। আমরা হয়তো আজ-কালের মধ্যে সেটি করবো। যাতে তারা নিরাপদে ও আনন্দে পূজা উদযাপন করতে পারেন।’
দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়ানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকদিন ধরে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ানোর দাবি ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের। তারা ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত আনন্দ উদযাপন করেন। এবার দুর্গাপূজার দশমীর আগে শুক্র-শনিবার পড়েছে। তাই আমরা চিন্তা করেছি, এবার আমরা একদিন ছুটি বাড়িয়ে দেবো। সরকার বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করে আজকের মধ্যে একটি প্রজ্ঞাপন হয়তো জারি করবেন। এর মধ্যে দিয়ে পূজার ছুটি একদিন বাড়ানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ও যেভাবে নিপীড়িত বলে অনুভব করছে, নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে, আমরা তাদের পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা দেখবো, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করতে পারেন। সব জনগোষ্ঠীর নির্বিঘ্নে আনন্দে নিজস্ব উৎসব পালনের অধিকার আছে। সেই অধিকার নিশ্চিতে সরকার বদ্ধ পরিকর। কঠিন চীবর দান উৎসবের বিষয়ে আমরা খুব শগগিরই এমনভাবে ব্যবস্থা নেবো যাতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তাদের উৎসব পালন করতে পারেন।’