বিনিয়োগে বাধা দূর করতে উচ্চক্ষমতার টাস্কফোর্স হবে: অর্থমন্ত্রী

বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে নিয়ন্ত্রণ ও জটিলতা কমানোর (ডিরেগুলেশন) উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, বিলম্ব কিংবা অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইটও চালু করা হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতিতে যেতে হবে এবং এটি এখন আর বিকল্প নয়, বরং বাধ্যবাধকতা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যেসব নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি হাইপাওয়ার্ড টাস্কফোর্স সার্বক্ষণিক তদারকি করবে।

তিনি বলেন, ‘‘নতুন বিনিয়োগ নীতিমালা কোথায় লঙ্ঘিত হচ্ছে, কে বাধা সৃষ্টি করছে কিংবা কোথায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে—এসব বিষয় টাস্কফোর্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, “বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ডিরেগুলেশন কার্যকর করতেই হবে। এটি বাস্তবায়নে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। কোনও সেবা নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন না হলে কেন বিলম্ব হলো, কার কারণে হলো—তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বা ‘পিপলস ইকোনমি’ বাস্তবায়ন শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি খাত, এনজিও এবং বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।’’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘বরিশালের কোনও প্রান্তিক নারী যদি শীতল পাটি তৈরি করেন, তাহলে সেই পণ্যের নকশা উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে ৭০০ টাকার পণ্যকে ২ হাজার টাকার পণ্যে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজাইন সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’’

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত করা হবে এবং প্রতিটি কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ থাকবে। শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নও শুরু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এই সরকার প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচিরও পাইলট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আমরা কোনও বিষয়কে শুধু নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।”

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘অতীতে এক বছরের প্রকল্প শেষ হতে সাত থেকে দশ বছর পর্যন্ত লেগেছে এবং এতে ব্যয়ও বহুগুণ বেড়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।’’

এ জন্য একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দফতরগুলো থেকে প্রকল্পের অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনও প্রকল্প পিছিয়ে পড়লে বা ব্যর্থ হলে তার কারণ ও দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্যও সেখানে দৃশ্যমান হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারবো কিনা তা সময়ই বলবে। তবে যদি ঘোষিত কর্মসূচির ৮০ শতাংশও বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।”

বাজেটোত্তর এই সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।