প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনে সাড়া, অনুমোদন পেয়েছেন ৪৭ হাজারের বেশি

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে ২২ হাজারের বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছে এবং অনুমোদন পেয়েছেন ৪৭ হাজারের বেশি।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি নিবন্ধন আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়েছেন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন। অন্যদিকে তদন্তে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া ১০ হাজার ১৪১ জনের তথ্য এখনও আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ১৬ জনের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৬৯টি এনআইডি স্মার্টকার্ড প্রিন্টের উপযোগী হয়েছে। ২২ হাজার ১৮টি স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশনে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, দেশভিত্তিক আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি থেকে ২৩ হাজার ৯৪০টি আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৩০ জন প্রবাসী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন এসেছে ১৬ হাজার ৮১২টি এবং ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি।

এছাড়া সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি, কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি, কানাডা থেকে ৩ হাজার ২৯৮টি, ওমান থেকে ২ হাজার ২৪৬টি, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ হাজার ২০৬টি আবেদন জমা পড়েছে। সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে, যার সংখ্যা মাত্র ১২৬।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব স্টেশনের মাধ্যমে প্রবাসীরা আবেদন, বায়োমেট্রিক প্রদান এবং এনআইডি সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।

এসব স্টেশন হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া।

প্রবাসীদের ভোটার হতে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণের পাশাপাশি বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন আবেদন অনুমোদন করলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয়।