গণমাধ্যমের অনুকরণে অপতথ্য প্রচার করা ৪০০ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত: মন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্য প্রচার করে থাকে এমন ১৬টি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট। বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায় এমন ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিন সোমবার (২২ জুন) জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

তিনি এদিন আরও জানান, গুজব মোকাবিলায় করণীয়, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পিআইবি হতে ‘শিকারি সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। বেলা ৩টায় শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এদিন লিখিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করেন স্পিকার।

সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানতে চান, গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা পরিকল্পিতভাবে তাহাদের গণধিকৃত মতবাদ প্রচারের অপচেষ্টা করে চলছে। এই ব্যাপারে আপনার মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?

জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবেলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক উইং ‘বাংলাফ্যাক্ট’ কার্যক্রম তৎপর রয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাফ্যাক্ট ৭৮৩টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ২২৯টি করা হয়েছে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর। 

এর পাশাপাশি পিআইবি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত ৬৪ জেলায় মোট ১২৩টি প্রশিক্ষণ বা কর্মশালায় ৫ হাজার ৯৭৭ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১০টি প্রশিক্ষণে মোট ৩৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণে অন্তত একদিন প্রশিক্ষণার্থীদের গুজব মোকাবিলায় করণীয়, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্য প্রচার করে থাকে এমন ১৬টি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’। বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায় এমন ৩০০টিরও বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাফ্যাক্ট প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট, রিল ও ভিডিও প্রকাশ করছে। 

গণমাধ্যমকর্মীদের সুবিধার্থে শিগগিরই ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশিত হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদীরা কীভাবে বিরোধীদের দমন ও তাহাদের চরিত্রহনন করে, তা লয়ে সম্প্রতি পিআইবি হতে ‘শিকারি সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে।