অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিন লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, অনলাইন জুয়ার সাইটে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন ও টাকা পাচার হচ্ছে। তা বন্ধে সরকারের পরিকল্পনা কী?
জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অনলাইন জুয়া বন্ধে সরকার সাইবার সিকিউরিটি আইন, ২০২৬ জারি করেছে। ওই আইনের ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার নিমিত্ত কোনও পোর্টাল-অ্যাপস-ডিভাইস তৈরি বা পরিচালনা করা বা জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করা বা খেলায় সহায়তা-উৎসাহ প্রদান করা বা উৎসাহ প্রদানের জন্য বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার-বিজ্ঞাপন করা উক্ত ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ যার শাস্তি অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।”
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ জারির পর অনলাইন জুয়া বিষয়ে বিএফআইইউ কর্তৃক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রণয়ন করে তা গত মে মাসে সিআইডিকে সরবরাহ করা হয়েছে। সিআইডি ইতোমধ্যে এই বিষয়ে মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত লেনদেন পর্যালোচনা এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া অনলাইন ভিত্তিক জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গত ২৮ মে সব মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রোভাইডারের প্রতি নির্দেশনামূলক একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ওই সার্কুলারে কোনও মার্চেন্ট বা সাধারণ গ্রাহকের অনলাইন জুয়ার কার্যক্রমে জড়িত থাকার বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকির আওতায় রাখা এবং কোনও মার্চেন্ট বা সাধারণ গ্রাহক এই সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রতীয়মান হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবর অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া অনলাইনভিত্তিক জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রমের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে গ্রাহকের সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।