দেশের চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারের মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৩৪৪ কোটি টাকা বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়কমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। একই সঙ্গে তিনি জানান, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেডের কাছে। এর পরেই রয়েছে পাওনা রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে।
বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়কমন্ত্রী।
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) এবং নিরীক্ষা আপত্তিজনিত দাবির কারণে অপারেটরগুলোর কাছে এই বকেয়া জমেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টেলিটকের কাছে বকেয়া রয়েছে ৫৯৫৪ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি ও অন্যান্য খাতে এই পাওনা আদায়ের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে।
বেসরকারি অপারেটরগুলোর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের বকেয়া ৬১০২ কোটি টাকা। ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই অর্থ দাবি করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছে সরকারের মোট বকেয়া ৬১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অডিট আপত্তিজনিত দাবি এবং রেভিনিউ শেয়ারিং-সংক্রান্ত পাওনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বিষয়েও আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের কাছে সরকারের বকেয়া ৪৭৩ কোটি টাকা। অডিট আপত্তি ও রেভিনিউ শেয়ারিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির কারণে এই অর্থ পাওনা হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে আরও বলা হয়, মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বেশ কয়েকটি দাবি আদালতে বিচারাধীন থাকায় বকেয়া আদায়ের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিশেষ করে অডিট আপত্তি ও রাজস্ব ভাগাভাগি (রেভিনিউ শেয়ারিং) সংক্রান্ত বিরোধগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ায় সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আটকে রয়েছে।









