‘তারেক রহমানের নির্যাতনের বিচার না হলে পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে’ 

বিগত এক-এগারোর সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরে যে নির্যাতন হয়েছে— তার মুখোশ উন্মোচন ও বিচার দাবি করেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। এর বিচার না হলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে তিনি শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।  

বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার অংশ নিয়ে শাম্মী আক্তার এই দাবি জানান। এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।  

শাম্মী আক্তার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেছেন যে, এখনও যদি এক্সরে করা হয় তার মেরুদণ্ডের হাড়টি বাঁকা হয়ে জোড়া লেগেছে, সেটি তিনি দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি প্রতিশোধ নিতে চান না। তিনি বলেছেন, তিনি প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না, এটি থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে চান। এটি অবশ্যই একটি দেশের জন্য, রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। কিন্তু প্রতিশোধ না মানে বিচারহীনতা নয়। আমরা চাই এক-এগারোর সরকারের সময়ে তার ওপরে যে নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে, এই ঘটনার মুখোশ উন্মোচন করা হোক এবং এই ঘটনার আমি বিচার দাবি করছি। বিচার যদি না হয় তাহলে পরবর্তী সময়ে এই ঘটনা আবারও পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করছি।”  

প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কার্বন শিল্পনীতির ক্ষেত্রেও এই বাজেট সময়োপযোগী। সোলার ইনভার্টার, সোলার মডিউল, লিথিয়াম ব্যাটারি, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম এবং ইলেকট্রিক যানবাহন উৎপাদনের ক্ষেত্রে কর শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ— আমরা শুধু আজকের জ্বালানি চাহিদা নয়, আগামী দিনের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষা ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের কথাও ভাবছি। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের জন্য এই ধরনের কৌশল অপরিহার্য।”  

শাম্মী আক্তার বলেন, “মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষ বাজেটের টেবিল দেখে না, মানুষ বাজারে যায়। তাই বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উৎপাদন ব্যয় কমানো। কৃষি খাতে সার, বীজ, সেচ এবং যান্ত্রিকীকরণে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জিংক অ্যাশের ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, পোল্ট্রি, ডেইরি ও ফিশ ফিডের তিনটি নতুন কাঁচামালে শুল্ক এবং পোল্ট্রি যন্ত্রপাতির পাঁচটি প্রয়োজনীয় উপকরণের শুল্ক শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ উৎপাদন খরচ কমাবে। উৎপাদন খরচ কমলে সরবরাহ বাড়ে। বাজারে সরবরাহ বাড়লে চাপ কমে। এটাই হচ্ছে মূল্যস্ফীতি কমানোর বাস্তব পথ। বিরোধী দলের বন্ধুরা যারা বলেন যে, সরকারের হাতে কি আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ আছে কিনা; আমি বলতে চাই সরকারের আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগের চিন্তা না করে আসুন আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আসুন আপনারা-আমরা সবাই মিলে এই বাজেট বাস্তবায়ন করি, যেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে এই দেশের জনগণের জন্য, এই দেশের কল্যাণের জন্য, এই দেশের সমৃদ্ধির জন্য। আসুন সবাই মিলে সেই বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করি। এটি আমি বলতে চাই।”