হাওর অঞ্চল নিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি এমপি ফজলুর রহমানের

হাওর অঞ্চল নিয়ে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমার জন্মভূমি হাওর এলাকা। এই হাওর অঞ্চল শুরু হয়েছে চাঁদপুর থেকে, গারো পাহাড়, খাসিয়া পাহাড় হয়ে জৈন্তা পাহাড় পর্যন্ত। একসময় চাঁদ সওদাগরের রুপার নৌকা ছিল, সপ্তডিঙ্গা ছিল, বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি ছিল। আজকের চাঁদপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন, ধর্মপাশা ও বানিয়াচুং পর্যন্ত বিস্তৃত যে অঞ্চল, সেটিই একসময় কালিদর সাগর নামে পরিচিত ছিল। এখন সেটিকে হাওর এলাকা বলা হয়।’

তিনি বলেন, ‘একসময় রংপুর শ্রমিক সরবরাহ করত, এখন হাওর অঞ্চলের মানুষ সারা বাংলাদেশে শ্রমিক সরবরাহ করে। অথচ এই অঞ্চল ছিল দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ এলাকা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ হয়ে হাসান রাজার এলাকায় গিয়েছিলেন, তখন এই অঞ্চলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই এলাকা অনেকটাই বিরান হয়ে গেছে।’

ফজলুর রহমান বলেন, ‘যেমন পার্বত্য অঞ্চলের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মতো—তেমনি ভাটি অঞ্চলের প্রায় ৩০টি উপজেলা নিয়ে গঠিত হাওর এলাকারও আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। এটি সম্পূর্ণ পানিনির্ভর একটি অঞ্চল। এই এলাকার মানুষকে বাঁচাতে হলে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। সেই দাবিই আমি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার নেতা যদি থাকতেন, তাহলে আমি তার কাছেই এ দাবি জানাতাম। এখন দায়িত্বে আছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমি তার কাছেও অনুরোধ করছি, হাওর অঞ্চলের জন্য আলাদা একটি মন্ত্রণালয় করা যায় কি না, তা বিবেচনা করতে।’

হাওর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘হাওর এলাকায় বেশ কয়েকটি উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি উড়ালসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পুনরায় চালু করা যায় কি না, অথবা কম খরচে এমন কোনো সড়ক নির্মাণ করা যায় কি না, যাতে হাওর এলাকার মানুষ ১২ মাস সহজে যাতায়াত করতে পারে এবং ঢাকা থেকে সরাসরি সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়, সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন।’