‘কোনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, কক্সবাজারের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সরকার শুরু থেকেই রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অতিরিক্ত ত্রাণ ও নগদ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সোমবার (১৩ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি উপজেলায় অতিরিক্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবার প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনা। এ লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, সড়ক, সেতু ও কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

পাহাড়ধসে প্রাণহানির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের বিকল্প স্থানে জমি ও ঘর নির্মাণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ পাহাড় কাটা ও দখলের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং কোনও প্রভাবশালী মহলকেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।

ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, জনপ্রতিনিধি এবং বেসরকারি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।

স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধ সংস্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার সফর করে ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধ সরেজমিনে পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।