বর্তমান মন্ত্রিসভা কত সদস্যের, আগস্টে কতটা পরিবর্তন আসতে পারে

সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তি সামনে রেখে আগামী আগস্টে মন্ত্রিসভায় রদবদল, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতার ছয় মাসের মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৪৮। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রয়েছেন ২৩ জন মন্ত্রী এবং ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তখন তার মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৪৯ জন সদস্য ছিলেন। পরে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান গত ১ জুন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে সদস্য সংখ্যা কমে ৪৮-এ নেমে আসে।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগস্টে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর মন্ত্রীদের কর্মসম্পাদন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনার ভিত্তিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, অন্তত দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানো, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং যেসব মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে, সেখানে পরিবর্তন আনার বিষয়ও বিবেচনায় আছে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য; এই তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একইভাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন; এই তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন শেখ রবিউল আলম। এছাড়া শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদ, ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয় একই মন্ত্রীর অধীনে রয়েছে।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এসব ক্ষেত্রে কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিমন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকার গঠনের সময়ই জানানো হয়েছিল, প্রথম ছয় মাস মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং কিছু ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার আকারও সামান্য বাড়ানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন মুখের তালিকায় রয়েছেন এবিএম মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লাহ বুলু এবং জয়নুল আবদিন ফারুক। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে।

তবে মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন, কে বাদ পড়বেন বা নতুন করে কারা যুক্ত হবেন; এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ছয় মাসের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।