বাংলাদেশ কি চীনের বলয়ে ঢুকে গেছে?

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের পররাষ্ট্রনীতি নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারের তরফে বারবারই বলা হচ্ছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা হবে। অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থার মাঝে দেশে এখন ৯২ শতাংশ বিনিয়োগ চীনের। এছাড়া মেগা প্রকল্পে আরও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি আছে। সরকারও মনে করছে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিরাপদ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপদ মনে করলেও ঝুঁকি আছে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

চীনের বিনিয়োগ ৯২ শতাংশ 

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছানো ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের মধ্যে প্রায় ৩৬৭ মিলিয়ন ডলার বা ৯২ শতাংশই এসেছে চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। এসব বিনিয়োগ হচ্ছে মূলত উন্নত বস্ত্র, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ও নির্মাণসামগ্রী খাতে। বিনিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি হংকংভিত্তিক হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রাথমিক ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাড়িয়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সহযোগিতায় এ বিনিয়োগ বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।

চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান চায়না লেসো গ্রুপ চট্টগ্রামের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে একটি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে পিভিসি ও পিইএক্স পাইপ, সৌর প্যানেল, স্যানিটারি সামগ্রী, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, দরজা-জানালা, পানি পরিশোধন যন্ত্র, ক্যাবল, আলোকসজ্জা সরঞ্জাম এবং অগ্নিনির্বাপণ পণ্য উৎপাদন করা হবে। এতে নির্মাণসামগ্রীর আমদানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতও উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চীন ও হংকং থেকে বাংলাদেশে মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্যের ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারের পর এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি এবং সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি।

চীনের অর্থায়নে দেশে ২১ হাজার শয্যার ২০টি আধুনিক হাসপাতাল, ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং চারটি হেলিকপ্টার যুক্ত হবে স্বাস্থ্যসেবায়। সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি এমওইউ সই

চীন সফরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা নেতৃত্বের সম্মতির ভিত্তিতে মোট ১৭টি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) সই হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের আগ্রহ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাবসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে উদ্যোগ নিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানিয়েছে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এতদিন সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব পর্যায়ে ছিল। এই সফরের মাধ্যমে সেটিকে উন্নীত করে ‘চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার’ বা ‘অভিন্ন ভবিষ্যৎ নিয়ে চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। এটি চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি কূটনৈতিক কাঠামো—যা চীন তার ঘনিষ্ঠ অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করে থাকে।

এ ধরনের সম্পর্ক চীনের শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে একই পর্যায়ের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকে কূটনৈতিক অগ্রগতির একটি বড় অর্জন বলে মনে করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা বলছেন, মোংলা বন্দর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় বড় অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একমত হয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আটটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), তিনটি চুক্তি, একটি প্রোটোকল এবং একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা সই হয়েছে।

এ ছাড়া বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে চীনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুটি চুক্তি এবং একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে। একইসঙ্গে অত্যন্ত সফলভাবে একটি বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে বন্দরভিত্তিক মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট কানেক্টিভিটি এবং চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএম) সংক্রান্ত সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দেবে চীন

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চীন সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যেকোনও বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ। প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর কিনা, তা নির্ধারণের পরই বাস্তবায়নের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ড্রেজিং এবং আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

এ ছাড়া ব্রিকস, এসসিও এবং আরসিইপিতে বাংলাদেশের যোগদানের প্রচেষ্টায় চীন পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

জিডিআইয়ে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি

প্রায় চার বছর ধরে নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে চীনের বহুল আলোচিত বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (জিডিআই)-এ যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেইজিংয়ের ধারাবাহিক চেষ্টা সত্ত্বেও ঢাকা এতে চূড়ান্ত সই করা থেকে বিরত ছিল।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশ্ব নিয়ে ভাবনার অংশ হিসেবে চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ রয়েছে। এগুলো হলো—গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই), গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (জিএসআই), গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ (জিসিআই) এবং গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ (জিজিআই)। বাংলাদেশ এর একটি উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) অংশগ্রহণের প্রায় এক দশক পর এবার বেইজিংয়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে (জিডিআই) যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা সই হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিডিআইয়ে অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশকে চীনের আরও কাছে নিয়ে যাবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনও কখনও চীন সবচেয়ে সামনে থাকে। আবার কখনও কখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামনে আসে। বিশেষ করে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান কেনা হয়, তখন সেটার পরিমাণ বেড়ে যায়। তা না হলে চীন আসলে আমাদের মূল বিনিয়োগকারী। আমাদের দেশে অনেক দেশ বিনিয়োগ করে, কিন্তু চীনের বিনিয়োগ অনেক বেশি নিয়মিত হয়ে থাকে।’’

সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, ‘‘চীনের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত আছে। শিক্ষা, জনশক্তি উন্নয়নে, সামাজিক উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কৃষি গবেষণায় চীনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছু মিলিয়ে চীনের সঙ্গে আমাদের বহুদিন ধরে যে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব; সেই সম্পর্কটাকে আরও নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সফরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’’

ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে কোন পথে যাবে বাংলাদেশ

অঞ্চল হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার কেন্দ্র এবং পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি গঠন করে এবং ভারত মহাসাগরকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে কৌশলগত সমুদ্রপথগুলো বিস্তৃত করে—এই অঞ্চলটিকে মার্কিন-চীন প্রতিযোগিতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করে। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তার নিজস্ব ‘উঠোন’ হিসেবে দেখেছে এবং মার্কিন দাবি অনুযায়ী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন শক্তিকে দুর্বল করার সামগ্রিক কৌশলের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। চীন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতি, নিরাপত্তা সম্পর্ক, সফট পাওয়ার প্রোগ্রাম সম্প্রসারণে বড় এবং টেকসই বিনিয়োগ করেছে।

মার্কিনিদের দাবি, চীনের লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং নীতিনির্ধারক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতি ক্ষুণ্ন করা।

ইন্দোপ্যাসিফিকে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সেতু হিসেবে কাজ করে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জলদস্যুতা, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান, অবৈধভাবে জলজপ্রাণী ধরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। ইন্দো-প্যাসিফিক কাঠামো এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে তাতে যেন সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র তৈরি না হয়। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য বজায় রাখলে সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু একপাক্ষিক অবস্থান কূটনৈতিক চাপ এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই বাংলাদেশের উচিত হবে—যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় কোনও পক্ষ বা সামরিক ব্লকের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখা।  

মিয়ানমার হয়ে বঙ্গোপসাগরে নামতে চায় চীন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে চীনের পক্ষ থেকে মিয়ানমার হয়ে একটি অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব দেওয়া হয়। মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে কিয়াউকফিউ বন্দর ঘিরে এই মহাপরিকল্পনা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা শুধু বন্দর নয়, বরং ভারত মহাসাগরে প্রবেশের রাস্তা। এটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতি পাল্টে যেতে পারে। তবে তাদের মতে, এই করিডরের প্রধান বাধা মিয়ানামারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত।

সরকার মনে করছে, এই করিডর চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে। 

পররাষ্ট্রনীতি কোন পথে বুঝতে চাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোন পথে যাচ্ছে এবং অগ্রাধিকার কী—তা বুঝতে ঢাকায় আসছেন মার্কিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। ৩০ জুলাই তিনি তিন দিনের সফরে আসবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীন, তুরস্ক, রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের এনগেজমেন্টের বিষয়ে ধারণা নিতেই হয়তো তার বাংলাদেশ সফর। 

চীনকে নিরাপদ মনে করে সরকার

বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হলে আমরা নিরাপদ বোধ করি। আমরা সবসময় চেয়েছি, চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দৃঢ় করতে, আমাদের স্বার্থে। কারণ আমরা চাই চীনের মতো একটা শক্তি আমাদের পাশে থাকুক।’’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক রাখতে হবে, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও রাখতে হবে। বিগত সময়ের মতো কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশ-নির্ভর বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে।’’

সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, চীন হচ্ছে কাঁচামালের একটা উৎস। সুতরাং, যত ধরনের কাঁচামাল প্রয়োজন হবে, তার জন্য চীনের কাছে যেতে হবে। একইভাবে প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গেও সেই সম্পর্ক আছে। এদের কাছ থেকে কাঁচামাল নিয়ে আমরা পাঠাই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে। সুতরাং, এটা একটা সরবরাহ চেইন। এই চেইনের কোনও একটা উৎস যদি বিঘ্ন ঘটে, তাহলে ক্ষতি আমাদেরই হবে। তাই আমাদের নিজেদের স্বার্থেই সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে হবে।’’