পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের প্রধান শ্রম বাজারগুলো, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে, অটোমেশন এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। আগামী বছরগুলোতে, উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতা, স্বীকৃত যোগ্যতা এবং আধুনিক কর্মক্ষেত্রের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাসহ কর্মীদের চাহিদা ক্রমবর্ধমানভাবে অনুকূল হবে। তাই বাংলাদেশকে এখন অভিবাসীদের কর্মসংস্থান, আয় ও পেশাগত প্রবৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। আমাদের বিদেশি শ্রমবাজারকে বৈচিত্র্যময় করার এটাই উপযুক্ত সময়, যাতে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিবাসীরা সীমিত বিকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অভিবাসন বিষয়ক কর্মপরিকল্পনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘‘অভিবাসন যদি ভুলভাবে পরিচালিত হয় তবে এটি নেতিবাচক পরিণতির দিকে পরিচালিত করে। অনিরাপদ এবং অনিয়মিত অভিবাসন একজন অভিবাসীকে উচ্চ আশা নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে এবং বিশাল মৃত্যু নিয়ে ফিরে আসে, যার ফলে তাদের পরিবার সবচেয়ে খারাপ দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে যায়- আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে। সুতরাং, আমাদের দায়িত্ব হলো উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিবাসীরা যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, নিয়মিত পথে ভ্রমণ করতে পারে, ন্যায্য পরিবেশে কাজ করতে পারে, যথাযথ কনস্যুলার এবং অন্যান্য সহায়তা পেতে পারে এবং মর্যাদার সাথে দেশে ফিরে যেতে পারে তা নিশ্চিত করা।’’
তিনি বলেন, ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির দ্বারা পরিচালিত বর্তমান সরকার আরও সুনির্দিষ্টভাবে কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আমাদের প্রবাসী কল্যাণকে তার সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকারে রেখেছে। অভিবাসন খরচ যুক্তিসঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে নামিয়ে আনতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, অবৈধ রুটে মানবপাচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং আমাদের উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে অভিবাসন সুশাসনকে সংহত করার গুরুত্ব অনুধাবন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রথমবারের মতো অভিবাসন ও এনআরবি বিষয়ক শাখা প্রতিষ্ঠা করেছে—যা অভিবাসন সুশাসন, প্রবাসী বাংলাদেশি ও প্রবাসী বিষয়ক বিষয়ে নিবেদিতভাবে কাজ করবে। আমি আপনাদের অবহিত করতে চাই যে দীর্ঘ জটিলতার পর সরকারের নতুন ও উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা এবং সফল আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আশা করা যাচ্ছে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু হবে।’’
তিনি আর বলেন, ‘‘দেশের অভিবাসন নীতিকে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, শিল্প ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করে আমরা সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে চলেছি। জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরে সরকারের জন্য একটি সাধারণ দিকনির্দেশনা সরবরাহ করে। আমি উচ্চ আশাবাদের সঙ্গে জাতীয় কর্ম পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় রয়েছি। আমাদের অভিবাসী শ্রমিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আমি জানাতে চাই যে বাংলাদেশ সরকার আপনাদের আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দেয়, আপনাদের অবদানকে মূল্য দেয় এবং আপনাদের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, আইওএম-এর উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, বাংলাদেশে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ।
এছাড়া বাংলাদেশ মাইগ্রেশন কমপ্যাক্ট টাস্কফোর্সের সহ-সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোক্তার আহমেদ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং আইএমআরএফ ২০২৬-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।