দেড় বছরের মধ্যে নতুন এফএসআরইউ পাওয়ার চেষ্টা, চীনের সঙ্গে চুক্তি

দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রধান বাধা রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা। বর্তমানে থাকা দুটি এফএসআরইউ দিয়ে দিনে প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। এ কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম কমলেও ইচ্ছামতো আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি এফএসআরইউ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য দেড় বছরের মধ্যে সেটি পাওয়া।” 

জাহেদ উর রহমান বলেন, “শুধু এফএসআরইউ আনলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সেখান থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিতে প্রয়োজনীয় সঞ্চালন পাইপলাইনও নির্মাণ করতে হবে। ফলে পুরো অবকাঠামো একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।” 

নতুন এফএসআরইউটির ভাড়া আগে স্থগিত থাকা একটি প্রকল্পের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ বেশি। সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সরকারের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব অতিরিক্ত রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা তৈরি করা।” 

তিনি বলেন, “দ্রুত এফএসআরইউ পেতে কিছু অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হয়, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।” 

তিনি বলেন, “গ্যাস না পেয়ে কোনও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র তেল দিয়ে চালাতে হলে উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে এবং বিদেশি ক্রেতারাও বাংলাদেশে ক্রয়াদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনা করতে পারেন।” 

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগে অনুসন্ধান ও কূপ খননের কাজও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।