বাঁধনকে হেনস্তা নিয়ে সংসদে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও হামলার ঘটনায় সংসদে আলোচনা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। পাশাপাশি ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বৈঠক শুরু হয়। পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, বাংলাদেশের একজন পরিচিত অভিনেত্রী বিদেশে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়াকে তার বিরুদ্ধে হামলার কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিএনপি, জামায়াত বা অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ বিদেশে গেলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন তাদের হেনস্তা ও হামলা করছে। এমনকি তাদের দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, জাতিসংঘের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় তিনিও এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছিলেন।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের পরিকল্পনা কী এবং এ বিষয়ে সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে কিনা, জানতে চান তিনি।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, আরেকজন সংসদ সদস্যও একই বিষয়ে কথা বলেছেন। দুই সংসদ সদস্যের উত্থাপিত বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‘জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’

জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, সংসদে এটি তার প্রথম বক্তব্য। শুরুতেই তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে জীবন দেওয়া সব জুলাই যোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহতদের প্রতিও সম্মান জানান।

আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালির ভেনিস শহরের একটি পার্কে তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালায় বলে তিনি জানান।

 

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানে এই দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা।’

তিনি বলেন, ‘আজ সকালে আমি পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। একইসঙ্গে সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে আমরা ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করতে পারি এবং মিস বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহযোগিতা দিতে পারি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয় পুলিশকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেটকে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দূতাবাস ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করবে এবং এ ঘটনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরবে। একই সঙ্গে বাঁধনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কনস্যুলার সহযোগিতা দেওয়ার জন্য দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘দেশ লুট ও মানুষ হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেব’

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। যারা দেশ লুট ও মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, ‘এই দেশ লুটিং, কিলিং পিপল—যারা করেছে, তাদের আমরা এই দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা, ইনশাআল্লাহ, নেব।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতিত্ব গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছে। তার মতে, এটি বাংলাদেশের কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি শক্ত অবস্থান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন কোনও দেশের দাসত্ব বা গোলামি করবে না। বাংলাদেশ তার নিজস্ব পথে চলবে।’

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং জাতীয় সংসদের সমর্থনে বাংলাদেশ বিশ্বে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরুর পর একই বিষয় নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী প্রতিবাদ জানান।