দুই পৃথক চুক্তিতে বিমানের বহরে আসছে ২৫ বোয়িং

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হচ্ছে বোয়িং। গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি বোয়িং কেনার প্রথম চুক্তি করে বাংলাদেশ। এর ৪ মাস আরও ১১টির জন্য চুক্তি হলো। এর মধ্যে দিয়ে বিমানের বহরে নিজস্বভাবে যুক্ত হচ্ছে ২৫টি বোয়িং। বর্তমানে বিমানের রয়েছে ১১টি বোয়িং। সবমিলিয়ে ৩৬টি বোয়িং থাকছে বিমানের বহরে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনতে যুগান্তকারী চুক্তি সই করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘি এ চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তির অধীনে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট উড়োজাহাজ কেনা হবে যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। 

চুক্তি অনুযায়ী, বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা এবং বাকি উড়োজাহাজগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হবে। 

এদিকে এই চুক্তির ৪ মাস পর আজ বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে সাইডলাইনে আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দীন আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।  

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট, বোয়িং গ্লোবালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসন, বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানি পোপ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর, বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের ইউরেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাণিজ্যিক বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, “আজকের এই সম্পূরক চুক্তি বিমানের চলমান বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমাদের বহর পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তার আলোকে এই ক্রয়াদেশ প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বোয়িংয়ের সঙ্গে আমাদের যে কার্যকর ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে, তা উড়োজাহাজ সরবরাহ ও পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমাদের আস্থা জুগিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশে বসবাসকারী জনগণ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী বছরগুলোতে দেশের আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার জন্য একটি বিস্তৃত ও সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।”

নতুন এই চুক্তি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি বিমানের পরিচালন সক্ষমতা, পরিচালনাগত নমনীয়তা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই চুক্তি সহায়ক হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বিমান পরিবহন সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই বহর গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জাতীয় অগ্রাধিকার, প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান এবং বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতের ক্রমবিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ভবিষ্যতেও তার বহর ও নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করবে। 

এদিকে নতুন ১১টি বোয়িং কবে নাগাদ বিমানে যুক্ত হবে এবং এর ব্যয় কত হচ্ছে এ ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। 

বর্তমানে বিমান ১৯টি উড়োজাহাজ নিয়ে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ১১টি বোয়িং আর ৮টি ড্যাশ ৮।