প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী  

যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তদন্তে মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আমিনুল হক জানান, গত ১০ অক্টোবর বেলা ১১টায় সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটের দিকে তার কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান এবং প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের মিল আছে কিনা, তা যাচাই করতে বলেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নপত্র মিলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাকরি পাওয়ার আশায় এবং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে অনেক পরীক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছিলেন। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তারা কষ্ট পেয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।

আমিনুল হক বলেন, ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন পরীক্ষার তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকাল ৩টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সময় বেড়েছে তদন্ত কমিটির

তদন্ত কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে কমিটি আরও সময় চেয়েছে। আগামী রবিবার পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছে।

আমিনুল হক বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে আগের কোনও চক্র জড়িত কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি ফরেনসিক দল গঠন করে ঘটনার দিনের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রয়োজনীয় ফরেনসিক প্রতিবেদন তৈরির কাজও চলছে।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না মন্ত্রণালয়। নিয়োগ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি বাইরে থেকে যারা প্রশ্নপত্র ছাপানো বা ফটোকপি করে বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানোর কাজে যুক্ত ছিলেন, তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগের নিয়োগ কমিটি বহাল রেখে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায়, কমিটির ভেতরে কিংবা বাইরে ফটোকপির কাজে যুক্ত কারও মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাই তদন্তের আগে কাউকে অভিযুক্ত করতে চাই না।

তবে নিয়োগ কমিটি দায় এড়াতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেন, ‘ডেফিনেটলি নট’। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে পুরো বিষয়টি তদারকি করা হবে। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত সচিব মাহবুব। মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তদন্তের বিষয়টি তদারকি করবেন। তদন্তে যার বিরুদ্ধেই সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, সে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোক বা বাইরের কেউ, তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবারের পরীক্ষায় সব পরীক্ষার্থী যেন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে তিনি নিজে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম তদারকি করবেন বলে জানান।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে।