চাঁদের বুকে ‘সবুজের স্বপ্ন’

চাঁদের বুকে যেখানে রাত হয় টানা ১৪ দিন, আর তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, সেখানে কি প্রযুক্তির টিকে থাকা সম্ভব? এই অসম্ভবকে সম্ভব করতেই এবার চাঁদের পৃষ্ঠে গ্রিনহাউস তৈরির পরিকল্পনা করছে চীন। বেইজিংয়ে মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাইনিজ ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিএনএসএ) জ্যেষ্ঠ মহাকাশ প্রকৌশলী ওয়াং কিওং এই রোমাঞ্চকর প্রকল্পের কথা জানিয়েছেন।

চাঁদের প্রতিকূল পরিবেশে রোভার ও রোবটগুলো যাতে আরও সহজে এবং দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে, সে জন্যই এই বিশেষ গ্রিনহাউস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চীন। ওয়াং কিওং জানান, চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এই গ্রিনহাউস এক কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ওয়াং কিওং একই সঙ্গে চাং-ই-৬ মিশনের ডেপুটি চিফ ডিজাইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, চাং-ই-৬ মিশনের সংগৃহীত নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে চীনা বিজ্ঞানীরা চাঁদের দূরবর্তী প্রান্তের বিবর্তনমূলক ইতিহাস সম্পর্কে বেশ কিছু বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য পেয়েছেন, যা গ্রিনহাউস তৈরির পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখবে। ২০২৪ সালের ২৫ জুন ছ্যাং-ই-৬ প্রোবটি মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চাঁদের দূরবর্তী প্রান্ত থেকে প্রায় দুই কেজি (১,৯৩৫.৩ গ্রাম) নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছিল।

এই মহাকাশ যাত্রায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। ওয়াং কিওং জানান, ছ্যাং-ই-৬ মিশনে পাকিস্তানের একটি কিউবস্যাট এবং ফ্রান্স, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) ও ইতালির তিনটি বৈজ্ঞানিক পেলোড ব্যবহৃত হয়েছে। এসব আন্তর্জাতিক যন্ত্রাংশ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলাফল অর্জন করেছে।

সূত্র: সিনহুয়া