গাবতলী-বাবুবাজার বেড়িবাঁধে চলছে দখল রাজত্ব

বেড়িবাঁধ দখল করে চলছে ইট সুড়কির ব্যবসা

রাজধানীর গাবতলী থেকে বাবুবাজার বেড়িবাঁধ প্রতিদিনই নতুন নতুন দখলদারের হাতে চলে যাচ্ছে। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বেড়িবাঁধ ঘেষে দুপাশে তৈরি হচ্ছে স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাস ও ট্রাক স্ট্যান্ড। ফলে সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে বাঁধটি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের দেখভালের কথা থাকলেও তারা কখনও বাধেঁর অবৈধ দখল উচ্ছেদে যায়নি। তাই দেদারছে চলছে দখল।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের নিচ থেকে এই দখল শুরু হয়েছে।  মিটফোর্ড হাসপাতালের পেছনের অংশ (দক্ষিণ), সোয়ারীঘাট, কামালবাগের টাংকিঘাট ও ইসলামবাগ হয়ে কামরাঙ্গীরচর লোহারব্রিজ পর্যন্ত দখলের কারণে বাঁধটি আরও সরু হয়ে আসছে। একপাশ দিয়ে গাড়ি চললে অপর পাশ দিয়ে আসা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বাঁধের ওপরই আছে কয়েকটি বাজার।

বাঁধের দুপাশে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত ট্রাকস্ট্যান্ড

দেখা গেছে, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী ও মোহাম্মদপুর অংশেও দখল চলছে। বেড়িবাঁধ ঘেষে তৈরি করা হয়েছে ছোটছোট দোকান। মোহাম্মদপুরের তিনরাস্তায় ঘর তুলে দোকান তৈরি করা হয়েছে। মাটি ভরাট করে বানানো হয়েছে ট্রাক ও বাসস্টান্ড। চন্দ্রিমা উদ্যানের পরে কয়েকটি স’মিল গড়ে তোলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নব্বই দশকের গোড়ার দিকে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর পাদদেশ বাদামতলী-বাবুবাজার ও সোয়ারীঘাট দিয়ে গাবতলী হয়ে টঙ্গীর আবদুল্লাহপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ হলেও এটির সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর।

বেড়িবাঁধ দখল করে গড়ে ওঠা সমিল

২০০২ সালে প্রথম পাউবো বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ করে। এরপর কিছুদিন মেরামতও  করেছে পাউবো। পরে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০৮ সালে বেড়িবাঁধ সড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে বেড়িবাঁধ সড়কের দেখাশোনা করছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেড়িবাঁধটি পাউবো’র। আমরা শুধু এটির সংস্কার ও প্রস্তাবের দায়িত্ব পেয়েছি। রাজধানীর চারপাশে ৯১ কিলোমিটার চারলেনের সড়ক নির্মাণের জন্য আমাদের একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি এখনও অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন হলেই আমরা জমি রিকুইজিশনে যাবো। তবে এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।’

প্রকল্পটি দ্রুত  অনুমোদন হতে পারে বলে জানান তিনি ।

তিনি আরও বলেন,‘আপনি গাবতলী থেকে বাবুবাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের কথা বলছেন। আমরা পুরো কাজটি একসঙ্গে করার চেষ্টা করছি। এটা হলে, রাজধানীর যানজট কমে যাবে।’

আরও পড়ুন: 

ইউপি নির্বাচনের শেষ ধাপেও ঝরে গেলো তিন প্রাণ
বাজেট বাস্তবায়নটা বড় চ্যালেঞ্জ, দরকার সুশাসন

এপিএইচ/