শনিবার (৬ মে) বিকালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়ের করা মামলার এজাহারে এক নম্বর আসামি হিসেবে সাফাত আহমেদ, নাইম আশরাফ, সাদমান সফিক, সাফাতের ড্রাইভার বিল্লাল ও বডিগার্ডের (অজ্ঞাত) নাম উল্লেখ করা হয়। এজাহারে বলা হয়, ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন ২৯ মার্চ সকাল ১০টা পর্যন্ত ওই দুই তরুণীকে আটকে রাখা হয় বনানীর কে ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বর বাড়ির রেইনট্রি হোটেলের একটি কক্ষে। সেখানে তাদের জোরপূর্বক মদ পান করিয়ে সাফাত ও নাইম তাদের দু’জনকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে বনানী থানার পুলিশও তরুণীদের ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে যাওয়ায় শনিবার বিকালে ‘প্রভাবশালী’ ওই ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এছাড়া ধর্ষণের শিকার তরুণীরা যেন হাসপাতালে যেতে না পারেন, সেজন্য তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তরুণীরা। তারা সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পর থেকে ধর্ষকরা বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দিয়ে আসছে। যে কারণে মামলা করতে ও হাসপাতালে যেতে পারেননি তারা। মামলা দায়েরের পরও সেটা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের হুমকি দেওয়া অব্যাহত ছিল বলে জানান দুই তরুণীর একজন। লোকলজ্জার ভয়ে স্বজনরাও তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন না বলে জানান তারা।
ঘটনার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, তরুণীদের ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এ ধরনের আরও ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। যে কারণে অভিযুক্তরা জানতেন, কিছুটা সময় বিলম্বিত করা গেলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যাবে না। এছাড়াও, রেইনট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজও এখন আর নেই বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ। রেইনট্রি কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা একমাসের বেশি সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে না।
রেইনট্রি হোটেলের এক কর্মকর্তা নাম-পরিচয় প্রকাশ না করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের হোটেলের একটি রুম ভাড়া নিয়েছিল ধর্ষকদের ওই গ্রুপটি।’ এর বাইরে আর কোনও কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যা বলার পুলিশকেই বলব।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) আব্দুল আহাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধর্ষণ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তবে এখনও কোনও আসামি ধরা পড়েনি।’ রেইনট্রি হোটেলের ওই দিনের ভিডিও ফুটেজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হোটেল কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ একমাসের ফুটেজ সংরক্ষণ করে থাকে বলে আমাদের জানিয়েছে। তাই ধর্ষণ ঘটনা সংশ্লিষ্ট কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি।’
ধর্ষণের শিকার তরুণীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন— এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উইমেন অ্যান্ড ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উপ-পুলিশ কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে তারা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে তারা আদালতের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।’ এর আগে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন-
দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন
আপন জুয়েলার্সের মালিক বললেন, ধর্ষণ মামলা কি একমাস পর হয়?
/এসএমএন/জেইউ/টিআর/