অন্যদিকে, পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘তদন্ত নিজস্ব গতিতে চলছে। সময় হলেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’
এর আগে, শাহবাগে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ। একটি কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দফতরের যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) মীর রেজাউল করিম। আরেকটির নেতৃত্বে ডিএমপি’র রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার। দু’টি কমিটিই তদন্তের পর ডিএমপি কমিশনারের কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। তবে তদন্ত শেষ করতে না পেরে গত ২৩ জুলাই গঠিত দু’টি কমিটিই সময় বাড়িয়ে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া ডিএমপি সদর দফতরও আলাদাভাবে তদন্ত করছে। তবে এ মুহূর্তে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলতে পারবো না। তাদের কাছে আমি কিছু জিজ্ঞাসা করিনি, কোনও নির্দেশনাও দিইনি। এটা করলে তদন্তের ব্যাঘাত ঘটবে। আমি চাচ্ছি তারা চাপমুক্তভাবে তদন্ত করুক। এক্ষেত্রে আমি নিরপেক্ষ।’
ঘটনার দিন আন্দোলনে থাকা ঢাকা কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোশতাক আহমেদ বলেন, ‘সিদ্দিকুরের চোখে কোন পুলিশ সদস্য টিয়ারশেল মেরেছে এটা বের করা মোটেই অসম্ভব নয়। কারণ, এ ঘটনার অনেক স্থির ও ভিডিও চিত্র রয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করলেই বেরিয়ে যাবে কে টিয়ারশেল মেরেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেদিন কারা সেখানে দায়িত্ব পালন করেছে এবং কাদের হাতে গ্যাস গান ছিল সেটা পুলিশের ডিউটি তালিকাতেই রয়েছে। দায়ী পুলিশ সদস্যকে খুঁজে বের করা পুলিশের জন্য খুবই সহজ একটি বিষয়।’
উল্লেখ্য, পরীক্ষার রুটিন ও তারিখ ঘোষণাসহ কয়েকটি দাবিতে গত ২০ জুলাই সকাল ১০টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে অবস্থান নেন সরকারি তিতুমীর কলেজসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। তখন পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ছোড়ে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান চোখের দৃষ্টি হারান।
আরও পড়ুন-
আলো ফিরবে না সিদ্দিকুরের দু’চোখে
‘আমার পুতরে থুইয়া বাড়িত যাইতাম না’
ভিডিওতে খুব কাছ থেকে ছাত্রদের টার্গেট করে পুলিশি হামলার দৃশ্য
নিজেদের ক্যাম্পাসেও সিদ্দিকুরের জন্য মানববন্ধন করতে পারলো না শিক্ষার্থীরা
/জেইউ/এমও/টিএন/